রোহিঙ্গাদের দান-সদকার আড়ালে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতেন তারা

লেখক: তানিম টিভি
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দান-সদকা ও মানবিক সাহায্য দেয়ার আড়ালে উগ্রবাদী মতাদর্শ ও জঙ্গিবাদে ধাবিত করতেন রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে গ্রেফতার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা। তারা হলেন- সংগঠনের একটি মডিউল বা সেলের প্রধান সাইয়েদ তাইমিয়া ইবরাহীম ওরফে আনোয়ার, মারুফ চৌধুরী মিশু ওরফে ফারহান ও মো. ফয়জুল মোরসালিন। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে দীর্ঘদিন অবস্থান করে দাওয়াতি কার্যক্রম চালাতেন।

রোববার (২৭ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার আনসার আল ইসলামের চার সদস্য সম্পর্কে এসব কথা বলেন সিটিটিসি প্রধান উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, গ্রেফতার তাইমিয়া ইবরাহীম ওরফে আনোয়ার বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি শিক্ষা কোর্সে অধ্যায়ন করছিলেন। সে ২০১৫ সাল থেকে এই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ২০১৬ সাল থেকে তিনি সেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

গ্রেফতার দ্বিতীয় ব্যক্তি মারুফ চৌধুরী মিশু ওরফে ফারহান ২০১৬ সাল থেকে এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এবং ২০১৭ সালে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকায় তিন মাস কাজ করেছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের মধ্যে দান, সদকা ও মানবিক সাহায্য দেয়ার আড়ালে রোহিঙ্গাদের উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার করার জন্য দীর্ঘদিন অবস্থান করে দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছিল। একইভাবে গ্রেফতার ফয়জুল মোরসালিন ঢাকার একটি আলিয়া মাদরাসা থেকে আলিম পাস করে বিআইইউবিটি কম্পিউটার সায়েন্সে অধ্যায়ন করছিল এবং অনলাইন সেলে কাজ করছি।

সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল গ্রেফতার তিনজন রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একত্র হয়ে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির বিশেষ টিম আগে থেকে অবস্থান নেয় এবং তাদের গ্রেফতার করে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে। এর মধ্যেও আনসার আল ইসলামের সদস্যরা কাজ করল কীভাবে? এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, মূলত তারা সাহায্য দেয়ার নামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করে। সাহায্য দেয়ার পাশাপাশি তারা দাওয়াত কার্যক্রম পরিচালনা করত।

গ্রেফতারকৃতরা এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অর্থ রোহিঙ্গাদের দান-সদকা করেছে- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন দান-সদকা, জাকাত ও বিভিন্ন উৎস থেকে তারা অর্থ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে দান করত। এই তহবিল থেকে তারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাহায্য কার্যক্রম চালাত।

এ পর্যন্ত কতজন রোহিঙ্গাকে তাদের মতাদর্শে আনতে সক্ষম হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির ডিআইজি বলেন, আমরা তাদের গতকালই গ্রেফতার করেছি। তারা ওই এলাকায় কার মাধ্যমে গিয়েছিল, কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এসব কিছু রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এখন পর্যন্ত তারা আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছে তার ভিত্তিতে পরবর্তী অপারেশন করা হবে।

দেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততা আছে কি-না, এর জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কানেকশন নেই। এছাড়া জঙ্গিদের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আছে।