কয়লা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলছে না ইন্দোনেশিয়া, বিপাকে প্রতিবেশীরা

স্থানীয় চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কয়লা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আপাতত তুলছে না ইন্দোনেশিয়া। তবে, বিশেষ বিবেচনায় আগে থেকে কয়লাভর্তি ৩৭টি জাহাজকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা পেরুসাহান লিস্ত্রিক নেগারার (পিএলএন) কয়লা মজুত ‘নিরাপদ অবস্থায়’ রয়েছে। এ কারণে বুধবার পর্যন্ত আগের কয়লাবোঝাই ৩৭টি জাহাজকে রপ্তানির উদ্দেশ্যে দেশছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

তারা জানিয়েছে, কয়লাবোঝাই জাহাজগুলো বন্দরে বেশিদিন রাখা বিপজ্জনক। তাই ‘আগুন লাগার ঝুঁকি এড়াতে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম ছিল, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। যার অর্থ, কয়লা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে ওই ৩৭টি জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ এবং এই নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহালই থাকছে।

দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কায় পিএলএনের হুঁশিয়ারির ভিত্তিতে গত ১ জানুয়ারি কয়লা রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইন্দোনেশীয় সরকার, যা মাসব্যাপী স্থায়ী হওয়ার কথা। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার মজুত ভয়াবহভাবে কমে গেছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত মানছে না বলে সেসময় সতর্কবার্তা দিয়েছিল পিএলএন।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময় ইন্দোনেশীয় সরকার বলেছে, পিএলএনের কয়লা মজুত মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় জাভা ও বালি দ্বীপের মতো এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎঘাটতি দেখা দিতে পারে। স্থানীয় কয়লা সরবরাহকারীরা শর্ত মানছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

তারা জানায়, সরকারি বিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদিত কয়লার অন্তত ২৫ শতাংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু সরবরাহকারীরা এই ‘দেশীয় বাজারের বাধ্যবাধকতা’ বা ডিএমও’র শর্ত পূরণ করছে না।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালে যেসব কয়লা কোম্পানি পিএলনের কাছে বিক্রয়শর্ত পূরণ করেছে এবং ডিএমও বিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলেছে, তারা কয়লা রপ্তানি শুরুর অনুমতি পাবে।

বিশ্বের বৃহত্তম থার্মাল কয়লা রপ্তানিকারক ইন্দোনেশিয়ার এমন নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে পড়েছে প্রতিবেশীরা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনেকাংশে ইন্দোনেশীয় কয়লার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া সরকার রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় দেশগুলোতে বিদ্যুৎঘাটতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা যত দ্রুততম সময়ে সম্ভব কয়লা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাকার্তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।