ঘেরাওকারীদের এসএমএসের অপেক্ষায় থাকতে বললেন আলেশা মার্ট চেয়ারম্যান

কিছু গ্রাহকের কারণে ই-কমার্স প্লাটফর্ম আলেশা মার্টের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর আলম শিকদার। অফিসে হামলা, ভাংচুর করায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মঞ্জুর আলম শিকদার বলেন, নগদ টাকা দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই, ব্যাংক আমাদের সহযোগিতা করছে না। এখন যা হচ্ছে, আমরা কিভাবে সার্ভ করবো। আমাদের কর্মীদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে কিভাবে কাজ করবো। আজকেও কিছু টাকা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু কোনো কর্মী অফিসে আসতে চাচ্ছেন না।

এ সময় এসএমএস ছাড়া গ্রাহককে অফিসে আসতে বারণ করার পাশাপাশি জানুয়ারির মধ্যেই আলেশা মার্ট শতভাগ গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে আলেশা মার্টের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পাওনা টাকার দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন গ্রাহকরা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর পণ্য না পেয়ে চেক বা নগদ টাকার জন্য তারা এসেছেন। তেজগাঁওয়ের আরেকটি অফিসেও একই অবস্থা।

সাদমান নামের এক গ্রাহক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের কথা অনুযায়ী গতকাল কয়েকজন টাকা নিতে এসেছিল। তবে তিনি গ্রাহকদের সঙ্গে দেখা না করেই চলে যান। রাতে অফিস তালা মেরে চলে যান প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।

jagonews24

গত জুন মাসে মোটরসাইকেল অর্ডার করে এখনো পাননি বেসকারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মী। বিগত ৬-৭ মাস ধরে টাকার জন্য তিনি আলেশা মার্টে আসছেন বলে জানান।

এদিকে ভিডিও বার্তায় আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি আসলে নিজেই বুঝতে পারছি না এই সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করবো। যে পরিকল্পনা করি সেটা নষ্ট করে দেওয়া হয়। আমাদের সমস্যা আছে, তা না হলে অনেক আগেই টাকা দিয়ে দিতাম। আলেশা মার্ট একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেটা টিকে আছে, প্রতিদিন কম বেশি করে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি বারবার বলেছি জানুয়ারির মধ্যে সবাই টাকা পাবেন। অনেকেই লিস্ট দিতে বলেছেন, কিন্তু আমরা সেটা করছি না। কারণ একদিন হয়তো আমরা ৫০০ জনকে টাকা দিতে পারছি, অন্যদিন হয়তো পারছি না। আমাদের ফান্ড যেভাবে আসছে সেভাবেই দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমরা জাতি হিসেবেই অন্যের ভালো দেখতে পারি না। অনেক মানুষের অনেক ধরনের সমস্যা আছে। আমরা ধৈর্য ধরতে পারছি না। গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা কি সবার বাসায় গিয়ে টাকা দিয়ে আসবো? আমরা ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে পারছি না। ব্যাংকের কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। শুক্র ও শনিবার অফিস খোলা থাকবে। সবার কাছে অনুরোধ এসএমএস ছাড়া অফিসে আসবেন না। এই মুহূর্তে সরাসরি টাকা দেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। কিন্তু কেউ এসে যদি ঝামেলা করেন, অফিস ভাংচুর করেন, তাহলে আমরা এটা করতে পারবো না। সিকিউরিটি ছাড়া কোনো কর্মী অফিস করতে চাইছেন না। কোনো ধরনের চাপে আমি মাথানত করবো না। যত গ্রুপ আসে, যে আসুক আমি মাথানত করবো না।

আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান বলেন, অনেকগুলো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করেছে, তাদের ধাক্কা আমাদের উপর পড়েছে। ধৈর্য ধরুন, সহ্য করুন, সবাই টাকা পাবেন। এমন কোনো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাবেন না যাতে করে হাজার হাজার গ্রাহক বিপদে পড়েন।