বিশ্ববাজারে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

হঠাৎ গত সপ্তাহজুড়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান হয়েছে। এক সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে আড়াই শতাংশের ওপরে। এর মাধ্যমে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে উঠে এসেছে মূল্যবান এ ধাতুটি।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। ভরিতে ২ হাজার ৩৩৩ টাকা বাড়িয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্ধারণ করা নতুন দাম আজ (১৩ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও নানা জটিল সমীকরণের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে অস্থিরতা চলছিল।

এরই মাঝে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিকভাবে তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এছাড়া চাহিদার বিপরীতে জোগান কম থাকায় বিশ্ববাজার ও দেশীয় বুলিয়ন বা পোদ্দার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম অনেকাংশে বেড়েছে বলে বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে বাজুস। অবশ্য স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। মাঝে কিছুটা দাম কমলেও এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকে।

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ায় মে মাসে দেশের বাজারে দু’দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। তবে জুনের শুরুতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণেদামে বড় পতন হয়। ফলে বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়। কিন্তু আগস্টের মাঝামাঝি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবার বেশ অস্থিরতা দেখা দেয়। কয়েক দফা উত্থান-পতনের মাধ্যমে এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম একশ ডলারের মতো বেড়ে যায়। ফলে বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়।

সেপ্টেম্বরে এসে আবার দরপতনের মধ্যে পড়ে স্বর্ণ। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়। ১ অক্টোবর বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি ভরিতে ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করে।

অবশ্য বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম কমানোর পর অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বিশ্ববাজারে আবার স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। গত দুই সপ্তাহ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অনেকটা টানা বাড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৩৩৩ টাকা বাড়িয়েছে বাজুস।

এতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হয়েছে ৭৪ হাজার ৩০০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৭১ হাজার ১৫০ এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ৬২ হাজার ৪০২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ৫২ হাজার ৮০ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৮১৬ দশমিক ৬৭ ডলার। সপ্তাহ শেষে তা ১ হাজার ৮৬৪ দশমিক ৬৩ ডলারে উঠে এসেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৯৬ ডলার বা ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এর আগে চলতি বছরের ১৫ জুন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮১৬ ডলারে উঠেছিল। এর মাঝে মূল্যবান এ ধাতুটির দাম এর নিচেই ছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে রুপার দামেও বড় উত্থান হয়েছে। গত এক সপ্তাহে রুপার দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্স রুপার দাম বেড়ে হয়েছে ২৫ দশমিক ৩০ ডলার। ফলে মাসের ব্যবধানে রুপার দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এছাড়া আরেক দামি ধাতু প্লাটিনামের দামও গত সপ্তাহে বেড়েছে। গত সপ্তাহে এই ধাতুটির দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৮২ দশমিক ২২ ডলারে।