বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ও আমাদের করণীয়

‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ বা ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’ বই পুস্তকে তা বলা থাকলেও স্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা সবার নেই। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যেরও যে সমস্যা থাকতে পারে তা অনেকেরই ধারণার বাইরে। কেউ কেউ এই বিষয়কে নিছক আনুষ্ঠানিকতা মনে করেন।

এমনকি শিক্ষিত সমাজেও এরকম মন মানসিকতা দেখা যায়। আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা, সামাজিক অবস্থান, সস্পর্ক ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও তার গুরুত্ব কমবেশি সবারই উপলব্ধিযোগ্য।

তৃতীয় বিশ্বের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য কেন উপেক্ষিত সে বিষয় আলোচনায় আনা জরুরি। তাছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জড়িত। ফলে জাতীয়ভাবে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতি গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ আছে কি না সেটাও তুলে ধরা জরুরি।

আরেকটি বিষয় উঠে আসা জরুরি, সেটা হচ্ছে মাদক সমস্যা। এ সমস্যা প্রতিরোধের প্রধান শর্ত হচ্ছে মাদক চোরাচালান ও পাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থা। একইসঙ্গে মাদক আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

পাশাপাশি মাদকাসক্তদের আধুনিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সমাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের বিষয়ে জনসাধারণের মনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সামাজিক প্রচরণাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তাছাড়া দেশে মানসিক রোগ ও তার ব্যাপকতার বিষয়ে জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে।

পাশাপশি মানসিক রোগ বিষয়ে গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এতে দক্ষ মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়বে। এসব বাস্তবায়ন করা গেলে এদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে।

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর ‘মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দিনটি পালন করা হচ্ছে। তবুও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘাটতি থেকেই গেছে। মানসিক স্বাস্থ্য আজও অবহেলিত।

তাই সবার উচিত নিজের ও অন্যের মনের যত্ন নেওয়া। সমস্যা হলে চিকিৎসক কিংবা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন। যে কোনো মানসিক সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।

নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরকেও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হোক সবার- এটাই হওয়া উচিত বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য।