সোনারগাঁয়ে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ

মাজহারুল রাসেল : সোনারগাঁ উপজেলার নদী, খাল, বিল ও ডোবা-জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। কৃষিজমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, খাল-বিল-ডোবা ভরাট, উন্মুক্ত জলাশয়ে সেচে ও বাঁধ নির্মাণসহ মাছের বিচরণক্ষেত্রের প্রতিকুল পরিবর্তনের কারণে এটি হচ্ছে।

সোনারগাঁ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগ আগেও এ অঞ্চলে প্রায় ৬০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে ৫০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে।
মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলায় মেঘনা, শীতলক্ষ্যা,বুড়িগঙ্গা,নদীর শাখা খাল ও সরকারি খালসহ বেশ কিছু নদী ও ছোট খাল-বিল মাছের প্রধান উৎস। এসব জলাশয়ের মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়।

একসময় জলাভূমিতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু এখন বেশ কিছু প্রজাতির মাছ তেমন দেখা যায় না। দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির কারণে স্থানীয় জেলেদের দুর্দিন যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমে মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। ওই সময় এক শ্রেণির মৎস্য শিকারি এগুলো ধরে ফেলে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন হয় না। তা ছাড়া কতিপয় মাছ চাষি বিভিন্ন দিঘি, পুকুর ইত্যাদি জলাশয় ইজারা নিয়ে বা ফসলি জমিতে মাছের ঘের তৈরি করে। এসব জলাশয় ও ঘের ফিল্টারিংয়ের নামে হিলটন নামের ওষুধসহ বিভিন্ন রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার করে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস করে ফেলছে।
এ ছাড়া কৃষিজমি থেকে রাসায়নিক পদার্থ বর্ষার সময় ও বিভিন্ন কল কারখানার বর্জ্য খালের মাধ্যমে নদী ও জলাশয়ে পড়ে পানি দূষিত করছে। ফলে দেশি প্রজাতির মাছ দিন দিন কমে অনেকটা বিলুপ্তির পথে।উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, আগে দেশীয় প্রজাতির যেসব মাছ দেখা যেত, তার অনেকটা এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে নানদিয়া, রিটা, বাচা, ছেনুয়া, গাওড়া, নাপতিনী, বুইতা ইত্যাদি।
এ ছাড়া বাঘাইড়, গোলসা, পাবদা, আইড়, নামাচান্দা, তারা বাইম, বড় বাইম, কালবাউশ, দাড়কিনাসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ বিপন্ন।
জলাশয়-ডোবা ভরাট, খালগুলোতে পানি সেচে ফেলা, অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারসহ মাছের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সোনারগাঁ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার জেসমিন আক্তার বলেন, খাল-বিল, ডোবা-জলাশয়গুলোর শ্রেণি পরিবর্তন করে ইজারা না দেয়া এবং নদী, খাল-বিল, জলাশয়ে অভয়াশ্রম সৃষ্টি করে প্রজননের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তবে সোনারগাঁ উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননের সুযোগ তৈরির জন্য মেঘনা  নদীতে অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে কাজ শুরু করবেন।

এই কর্মকর্তা আরোও বলেন, গণসচেতনতা তৈরি করে কৃষিজমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার রোধ এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করা গেলে বিপন্ন প্রজাতির এসব মাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।