মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তালিকায় নাম নেই নজরুল ইসলামের।

শুভ বসাক জয় ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :গৌরিপুরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তালিকায় নাম নেই নজরুল ইসলামের। অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সন্মান থেকে বঞ্চিত হয়ে  ১৩ জুন ২০২১ (রবিবার) ভোর ৫.৩০ মিনিটে গৌরীপুর হাসপাতালে স্টোক জনিত কারনে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গৌরিপুর উপজেলার গোবিন্দপুর, কাউরাট গ্রামের মৃত আছমত আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম। যিনি ‘নজরুল ’ নামে সুপরিচিত।

মো: নজরুল ইসলাম ১৯৬৮ সনে গৌরীপুর রাজেন্দ্র কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ভারত ও ভূটানে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১১ নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার মরহুম জনাব রফিকুল ইসলাম সাহেবের কোম্পানীতে প্লাটোন কমান্ডার মরহুম জনাব নজরুল ইসলাম সরকার ও সেক্টর কমান্ডার তৈয়ব আলী সরকারের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন রনাঙ্গনে হানাদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজের জীবন বাজী রেখে ত্রি – নট থ্রি রাইফেল দিয়ে যুদ্ধ করেন।মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ময়মনসিংহ জেলার ইউনিট কমান্ডার নাজিম উদ্দিন আহমেদ এবং গৌরিপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হাকিম ও ১১ নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার মরহুম রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মর্যাদা পান।

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে তিনি গৌরিপুর উপজেলার ১ নং মাইলকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং এরপর গৌরিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়াও তিনি গৌরিপুর উপজেলা তাতীঁলীগ ও মৎসজীবী লীগের আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি ও গেজেটে অন্তর্ভুক্তের জন্য তিনি জামুকাতে আপিল নং  ২১৮০৪/৬১৮৬ জিডি নং ১১০০২৩০ আপিল করেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ময়মনসিংহ জেলার ক্রমিক নং ৭৯ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।

এদিকে, তার ছেলে রফিকুল ইসলাম রবিন জানান, আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের একজন অংশিদার হিসাবে গর্বিত হয়েও স্বীকৃতি পায়নি। আমরা তাঁর সন্তানরা এ দুঃখ আজীবন বয়ে বেড়াতে চাই না।