সাধারণ ছুটিতে মানুষের ঢাকা ছাড়ার হিড়িকে করোনার বিস্তার: গবেষণা

দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তাররোধে সরকার গত বছর প্রথম দফায় যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল, ওই সময় মানুষের ঢাকা ছাড়ার হিড়িকই দেশব্যাপী এ মহামারির বিস্তার ঘটায়। দেশি-বিদেশি সাতটি প্রতিষ্ঠানের এক যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত গবেষণাপত্র খ্যাতনামা ব্রিটিশ সাময়িকী ‘ন্যাচার’-এ প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সিনিয়র ম্যানেজার (কমিউনিকেশনস) এ কে এম তারিফুল ইসলাম খানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আইইডিসিআর, আইসিডিডিআর,বি, আইদেশি, বাংলাদেশ সরকারের এটুআই প্রোগ্রাম, যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্যাঙ্গার জিনোমিক ইনস্টিটিউট, হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং ইউনিভার্সিটি অব বাথের বিজ্ঞানীদের যৌথ উদ্যোগে একটি জিনোমিক কনসোর্টিয়ামের আওতায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে এ গবেষণা শুরু হয়।

গবেষণায় বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের উদ্ভব, দেশব্যাপী করোনাভাইরাস বিস্তারে লকডাউনের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের চলাচলের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিকভাবে ২০২০ সালের মার্চ-জুলাই অন্তর্বর্তীকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ৩৯১টি করোনাভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য উদ্ভব ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় এবং পরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের মাধ্যমে আরও ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটে। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর বিস্তাররোধে ২৩ মার্চ বাংলাদেশ সরকার (প্রথম দফায়) ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

সরকারের এটুআই প্রোগ্রাম থেকে সংগৃহীত ফেসবুক এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী এ অন্তর্বর্তীকালীন ২৩ মার্চ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে জনসাধারণের ঢাকা ত্যাগ করার প্রাপ্ত ডাটার সঙ্গে সার্স-কোভ-২ জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৩ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে ঢাকা বহির্মুখী যাতায়াতই মূলত দেশব্যাপী করোনাভাইরাস বিস্তারের প্রাথমিক কারণ।

পরে কনসোর্টিয়াম নভেম্বর ২০২০ থেকে এপ্রিল ২০২১ এর মধ্যে সংগৃহীত আরও ৮৫টি সার্স-কোভ-২ নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ৩০টি ছিল লিনিয়েজ বি.১.১.২৫ (৩৫%), ১৩টি ছিল আলফা ভ্যারিয়েন্ট (বি.১.১.৭, ১৫ শতাংশ), ৪০টি ছিল বিটা ভ্যারিয়েন্ট (বি.১.৩৫১,৪৭ শতাংশ), একটি ছিল লিনিয়েজ বি.১.১.৩১৫, এবং একটি ছিল লিনিয়েজ বি.১.৫২৫। প্রথম ঢেউয়ে করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসের বিস্তাররোধে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যেমন- এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।