৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদেরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় দেশজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফলে টিকার ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতদিন পর্যন্ত টিকার ক্ষেত্রে বয়স্ক লোকজনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রাপ্ত বয়স্ক লোকজনের একটি বড় অংশ এরইমধ্যে টিকা গ্রহণ করেছেন। এবার শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

দেশটির ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও আগামী মাসের শেষের দিক থেকেই টিকার আওতায় আনা হবে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দু’জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে টিকা সহজলভ্য হতে পারে।

এর আগে ১২ বছর বা তার বেশি বছর বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এবার ১২ বছরের কম বয়সীদেরও টিকার আওতায় আনার খবরে বাবা-মায়েদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কমিশনার ডা. স্কট গটলিয়েবের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শিশুদের টিকার আওতায় আনার সবুজ সংকেত মিলেছে।

গটলিয়েব সিবিএস-এর ফেস দ্য ন্যাশন শো’তে বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শিশুদের জন্য ফাইজারের টিকা প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ফাইজারের টিকার বিষয়ে আমার আস্থা রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত শিশুদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে কিউবা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই শিশুদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু করেছে দেশটি। দুই বছর বা তার উর্ধ্বে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। কিউবা তাদের জনগণকে নিজেদের তৈরি টিকাই দিচ্ছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিইএইচও) কিউবার তৈরি টিকাকে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সোবেরানা-২ টিকা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের দেওয়া হচ্ছে আবদালা নামের অপর একটি টিকা। অন্যান্য দেশ যেমন চীন, ভেনেজুয়েলা এবং আরব আমিরাত জানিয়েছে যে, তারাও শিশুদের টিকার আওতায় আনতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রথম দেশ হিসেবে সবার আগে এই কাজ শুরু করে দিয়েছে কিউবা। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও।