নওগাঁয় ডিএপি ও এমওপি’ চড়ামূল্যে বিক্রি, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ নওগাঁয় চলতি আমন ধান চাষ মৌসুমের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোর সার বিক্রেতা দোকানীরা বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে কৃষকদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন ডিএপি ও এমওপি ( পটাশ)। এমনকি অনেক দোকানী সরকার নির্ধারিত মূল্যের তালিকা ঝুলিয়ে রেখে চাহিদামত সরবরাহ নেই, বেশী মূল্যে ক্রয়করা হয়েছে, অনেক দূর থেকে বেশী মূল্যে আনতে হয়েছে এমন অযুহাত দেখিয়ে শস্য-ভান্ডার খ্যাত এ জেলার সাধারন কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খুচরা বিক্রি মূল্যের থেকে বস্তা প্রতি ( ১৫০ থেকে ২০০ টাকা) বেশী নিচ্ছে দোকানীরা এমন তথ্যর ভিত্তিতে সত্যতা যাচায়ে নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের কুরমইল, কসবা সহ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার শ্যমপুর, চকরাজা, বাগধানা ও চৌমাশিয়া গ্রামের আমন ধান চাষী কয়েকজন কৃষকের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এটা আবার নতুন, আপনারা ( সাংবাদিকরা) আমাদের কথা শুনে সংবাদ প্রচার করবেন তাতে আমাদের কোনই লাভ নেই, বাজারে দাম কমাতেও পারবেন না, উল্টো আমরা সার দোকানির কাছে চিন্হিত হবো এবং আমাদের-ই ক্ষতি হবে।
এসময় তাদের নাম পরিচয় ( মিডিয়াতে-সংবাদে) প্রকাশ করা হবে না জানিয়ে আলাপকালে কৃষকরা জানান, এবারই নতুন না প্রতি বছর-ই বিশেষ করে ইরি-বোরো ও আমন ধান চাষ মৌসুমে আমাদেরকে সরকার নির্ধারিত দামের ( মূল্যের)  থেকে বেশি দামে ইউরিয়া, ডিএপি ও পটাশ কিনতে হয়। তবে ধান চাষ মৌসুমের শুরুতে সার দোকানীরা সব থেকে বেশি মূল্যে নিয়ে থাকেন জানিয়ে ২ জন কৃষক প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা ধান রোপনের শুরুতে কোথাই ছিলেন..?, ঐ সময় সব থেকে বেশী মূল্যে আমাদের কিনতে হয়েছে। আপনারা এখন এসেছেন সংবাদ করবা এখন-ত চাহিদা কম থাকায় দাম কমও নিতে পারে।
এসময় কৃষকদের কাছ থেকে কয়েকজন সার দোকানীর মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে কৃষকদের সামনেই দু জন সার দোকানীকে ফোন করে প্রতিবেদক নিজেকে ( কৃষক পরিচয় দিয়ে ডিএপি ও এমওপি বা পটাশ) নিতে চাইলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বস্তাপ্রতি দেরশত থেকে দুই শত টাকা বেশি মূল্য (চান), যার ফলে চড়া মূল্যে বিক্রির সত্যতা পান প্রতিবেদক। এমনকি প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে ধান ক্ষেতের জন্য ডিএপি, ও এমওপি ( পটাশ) দু বস্তা প্রয়োজন বলে নওহাটামোড় (চৌমাশিয়া) বাজারের পাল ট্রেডার্স নামে সার দোকানী সুমন্ত পাল এর ০১৭–৫০৭৩৩৬ নম্বর মুঠোফোনে কথা বললে তিনি
এমওপি ( পটাশ) প্রতি বস্তা ৯শ’ টাকা চেয়ে বলেন, ডিএমপি কোনটা নিবেন বিএডিসি ডিএপি ৮২০ টাকা, আর ভালোটা নিলে ৯৫০ টাকা প্রতি বস্তা মূল্য চান তিনি। একইভাবে হাট চকগৌরী বাজার ও সরস্বতীপুর বাজারের দু’ জন ব্যবসায়ীও প্রতি বস্তা চড়া মূল্য চান ফোনে। তবে- সরস্বতীপুর বাজারের স্থানিয় কয়েকজন জানিয়েছেন সম্পতি মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিজেই বাজারে এসে সরকার নির্ধারীত মূল্যের চাইতে যেন বেশি মূল্যে সার বিক্রি করা না হয় সে ব্যাপারে বাজারের সার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন এবং পাশাপাশি কৃষকদেরও সচেতন করেন।
একজন দোকানী ডিলার এর ব্যানার ( মূল্য তালিকা) দোকানে ঝুলিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি মূল্যে কেনাবেচা করছেন কৃষককের দেওয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার বাজারের দেবি ভান্ডার নামে এক দোকানীর ০১৭–৪৫১২০১ নম্বর মুঠোফোনে কলদিয়ে প্রতিবেদক নিজে কৃষক পরিচয়ে ডিএপি ও এমওপি ( পটাশ) প্রয়োজন বলে মূল্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমওপি ( পটাশ) বর্তমানে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০/ টাকা ও ডিএপি ভালোটা ১ হাজার টাকা বস্তা বলে জানানে ফোনেই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে সরকার নির্ধারিত খুচড়া বিক্রি মূল্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাহিদামত সরবরাহ নেই, যে সামান্য ৫/১০ বস্তা পাওয়া যায় তাতে কৃষকদের চাহিদা পূরুন না হওয়ায় বাইরে থেকে সংগ্রহ করে বেশি মূল্যে বিক্রি করছি বলেও দাবি করেন তিনি। আরেকটি বিষয় হলো দেবি ভান্ডার নামে বলিহার বাজারের সার দোকানে””মেসার্স- দিপক কুমার সরকার রাসায়নিক সার ডিলার নামে”” সারের নির্ধারিত মূল্য তালিকা ও দোকানের সামনেই ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
যে তালিকায় সরকার নির্ধারিত সারের খুচরা মূল্য তালিকা লিখা রয়েছে। তবে তালিকায় ইউরিয়া, টি এস পি ও এমওপি’র মূল্য লেখা থাকলেও ডিএপি’র মূল্য লিখা নেই। এব্যাপারে এলাকায় দায়িত্বরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা গৌরচন্দ্র মুঠোফোনে জানান, ইতিপূর্বেও বাজারে গিয়ে দোকানিদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে কেনাবেচা করতে বলা হয়েছে, আর কোন কৃষকের কাছে বেশি মূল্য নিয়েছেন সেই কৃষক ও আমাকে কিছুই জানাননি জানিয়ে তিনি প্রতিবেদককে-ই প্রস্তাব দেন দাদা আপনেও-ত ধান চাষ করেন, আপনার লাগলে বলেন আমি সরকার নির্ধারিত মূল্যেই নিয়েদিব।
উল্লেখ্য- কৃষকদের স্বার্থে সরকার সারএ ভর্তুকী দিয়ে বাজারে খুচরা বিক্রয় মূল্য নির্ধারন করে দিয়েছেন। কিন্তু কৃষি বিভাগ সহ কর্তৃপক্ষের বাজার মনিটরিং এর অভাবে নওগাঁর বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে খুচরা সার বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছেমত বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশীতে কোথাও বস্তা প্রতি ৫শত টাকা বেশী মূল্যেও প্রকাশ্যে কেনাবেচা করছে। তবে সার বিক্রেতারা ক্রেতা কৃষকদের কাছে বিক্রি রশিদ দেন না। এমনকি সম্পতি সরস্বতিপুর বাজারে ক্রয়ের রশিদ চাওয়াই এক কৃষকের এক বস্তা এওপি পটাশ ও এক বস্তা ডিএপি ভ্যান থেকে নেমেনিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিলো যা উপজেলার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অবগত হওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আশু পদক্ষেপ নেয়।  সাধারন কৃষক রক্ষায় চড়া মূল্যে সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জরুরীভাবে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।