দেড় বছর পর মুখরিত শিক্ষাপ্রাঙ্গণ

সেই চেনা ইউনিফর্ম, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, দুই ঝুঁটি কিংবা বুক পকেটে স্কুলের লোগো। আজকের সকালে দেশবাসীর চোখে পড়া সাধারণ দৃশ্য এটি। প্রায় দেড় বছর পর সকাল বেলার পাখিদের দেখা মিলল পথে। গন্তব্য নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমায় দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর খুলল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজ সকাল থেকে নির্ধারিত নিয়মে চলবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের সশরীরে পাঠদান।

বেশ লম্বা ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। চেনা ক্লাস আর মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে যেমন প্রস্তুত শিক্ষার্থীরা, তেমনি কচিকাঁচার আসরে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত শিক্ষকবৃন্দ। অবশ্য ফের করোনা সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কাও শিক্ষক আর অভিভাবকদের মনে উঁকি দিচ্ছে।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানী কয়েকটি স্কুলে ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছে। প্রতিষ্ঠানের গেটেই রয়েছে তাপমাত্রা মাপা ও স্যানিটাইজের ব্যবস্থা। এক এক করে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হচ্ছে। স্কুলে বাইরে যেন অভিভাবকদের জটলা সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

(স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের শারীরিক তাপমাত্রা মাপছেন শিক্ষক (ছবিটি সিলেটের বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠিয়েছেন শিক্ষিকা ওয়াহিদা শহীদ)

তবে দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলা এবং সব শ্রেণির ক্লাস না থাকায় আগের সেই হইহুল্লোড় কিছুটা স্থবির রয়েছে বলা যায়। স্কুল ফটকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অবস্থান করছেন শিক্ষকরাও। বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফুল কিংবা চকলেট দিয়ে বরণ করার আয়োজনও করা হয়েছে।

এদিকে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কি-না, তা পরিদর্শন করতে রাজধানীর দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর করোনা সংক্রমণ না কমায় এবং পরিবেশ অনুকূলে না আসায় কয়েক দফায় এই ছুটি বাড়িয়ে আসছিল সরকার। গতকাল শনিবার স্কুল-কলেজের এ ছুটি শেষ হয়েছে।