সোনারগাঁয়ে বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে কলমি শাক

মাজহারুল রাসেল : একসময় উপজেলার গ্রামের পুকুর, ডোবা, বিল ও জলাশয়গুলোতে কলমি লতা ও ফুল সহজেই চোখে পড়তো। এরা জলকলমি নামেও পরিচিত। কলমি ফুল দেখতে সুন্দর হলেও সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণের কারণে কলমি শাকটাই সবার পছন্দ।

কলমি শাক একটি আঁশজাতীয় খাবার। পুষ্টি গুণে কলমি শাক অনন্য। এতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে খাদ্য উপাদান। এই শাক দামে সস্তা ও সহজলভ্য, কিন্তু পুষ্টিতে  পরিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে থানকুনি, কচু কিংবা পুঁইশাকের চেয়েও এ শাকের পুষ্টিগুণ বেশি।

ভর্তা কিংবা ভাজি করে খাওয়া হয় কলমি শাক। এছাড়া পাকোড়া, বড়া ইত্যাদি তৈরি করেও খাওয়া যায়। এই শাকে রয়েছে অনেক ঔষধী গুণ। এটি চোখ ভালো রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখে। কলমি শাককে বসন্ত রোগের প্রতিষেধক বলা হয়। এছাড়া এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি।
প্রতি ১০০ গ্রাম কলমি শাকে পাওয়া যায় ২৯ কিলোক্যালোরি, সোডিয়াম ১১৩ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩১২ মিলিগ্রাম, খাদ্যআঁশ ২.১ গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম, কর্বোহাইড্রেটস ৫.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৭৩ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.৫ মিলিগ্রাম, জলীয় অংশ ৮৯.৭ গ্রাম।

কলমি শাকের পুষ্টিগুণের ও দামে সস্তা হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলমি শাক। তাই বাণিজ্যিকভাবে কৃষকেরা কলমি শাক চাষাবাদ করছেন।

সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোতে ঘুরে দেখা যায় উঁচু জমি ও পরিত্যক্ত জায়গায় কৃষকেরা কলমি শাক চাষাবাদ করছেন।

তেমনি একজন কৃষক মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কামার গাঁও গ্রামের রিপন সরকার প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও প্রায় দেড় বিঘা জমিতে কলমি শাক চাষাবাদ করেছেন। তার খরচ হয়েছে মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা,তিনি এ পর্যন্ত কলমি শাক বিক্রি করেছেন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার। তিনি আশায় আছেন আরো দশ থেকে ১৫ হাজার টাকার কলমি শাক বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।

বর্তমানে এই উপজেলায় শতাধিক কৃষক নিজস্ব জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে কলমি শাক চাষাবাদ করছেন। কারণ হিসেবে পৌরসভা এলাকার কলমি শাক চাষী ফরিদ উদ্দিন গাজী বলেন, কলমি শাক চাষে তেমন পরিশ্রম ও বেশি অর্থ ব্যয় হয় না। কিন্তু কলমি শাক বিক্রি করে ভালো মুনাফা অর্জন করা যায়। তিনি বলেন,তাই আমাদের এলাকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে কলমি শাক চাষাবাদ করছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার জানান, কলমি শাক জলে ও স্থলে দুই ভাবেই চাষাবাদ করা যায়। এত বেশি পরিশ্রমের ও অর্থের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মুনাফা বেশি। এবছর আমরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে কলমি শাকের বীজ ও সার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকি। যাতে করে কলমি শাক চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে কৃষকরা সহজে লাভবান হতে পারে।