বিধিনিষেধের ক্ষতি পুষিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে হাতিরঝিলের ওয়াটারবাস

করোনাজনিত বিধিনিষেধের ক্ষতি পুষিয়ে স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীর হাতিরঝিলের ওয়াটারবাস প্রকল্প। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে এ প্রকল্পে কর্মরত ৪০ জন কর্মচারী আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। তবে লকডাউন খুলে দেওয়ার পর তাদের বন্ধ হওয়া আয়ের দরজা খুলেছে।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হাতিরঝিলের এফডিসি-রামপুরা-বাড্ডায় চলাচলকারী নৌঘাট ঘুরে দেখা যায়, এ সময় অর্ধেকের মতো আসন খালি থাকলেও প্রতিটি ওয়াটারবাসই চলাচল করছে। তবে সকাল ও বিকেলে অফিস শুরু ও বন্ধের সময় যাত্রীর চাপ বাড়ে বলেও জানান এখানকার একাধিক কর্মচারী।

ওয়াটারবাস ব্যবহার করে যাতায়াত করেন এমন একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়    । এফডিসি ঘাটে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা রাসেল নামে এক তরুণ বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে আমি নিয়মিতই এই রুটে যাতায়াত করি। গাড়িতে চড়ে জ্যামে বসে থাকার চেয়ে নৌকায় গেলে ভালোই লাগে। লকডাউনে সব বন্ধ ছিল। এখন প্রয়োজনে বের হচ্ছি। গাড়িতে না চড়ে নৌকাতেই যাতায়াত করি।

পানিতে দুর্গন্ধ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন হাতিরঝিলে যথেষ্ট পানি আছে। তবুও এফডিসি থেকে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত পানিটা কালো ও দুর্গন্ধ। কিন্তু তার পর থেকে গুলশান-বাড্ডা পর্যন্ত গন্ধ নেই।

আরেক যাত্রী মধ্যবয়সী আফজাল হোসেন বললেন, আমি নিয়মিত যাত্রী না। তবে যখনই যাতায়াত করি, নৌকাতেই যাই। সময়ও কম লাগে। নৌকাতে কোনো জ্যাম নেই।

তিনি আরও বলেন, হাতিরঝিলের পরিবেশ এখন অনেকটাই ভালো। তবে লকডাউন খুলে দেওয়ার পর কয়েকদিন আগে একবার এসেছিলাম, তখন এতটা গন্ধ ছিল না। আজকে পানিটা বেশ নোংরা ও গন্ধ পাচ্ছি।

জানা যায়, এফডিসি থেকে গুলশান-বাড্ডা-গুদারাঘাট পর্যন্ত পাঁচটি ঘাট বর্তমানে সচল রয়েছে। এই ঘাটগুলোতে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১২টি ওয়াটারবাসের সবগুলোই যাতায়াত করছে। সারাদিন সবগুলো না চললেও সকাল ও বিকেলে অফিস শুরু ও বন্ধের সময় যাত্রীর চাপ বাড়লে সবগুলো বাসই চালু করতে হয়।

এফডিসি ঘাটের টিকিট কাউন্টারে কথা বলে জানা যায়, এই ঘাটে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিনশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে রামপুরা ঘাটে যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি। অফিস টাইমে দীর্ঘ লাইন হয় এ ঘাটে। প্রতিদিন ছয় শতাধিক টিকিট বিক্রি হয় এ ঘাটে। এছাড়া ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় তো আছেই।

jagonews24

ওয়াটারবাস প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদ আলম   বলেন, করোনার কারণে আমাদের সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এখন স্বাভাবিক আছে। বাস ড্রাইভার, কাউন্টারম্যান ও অন্যান্য কর্মচারী মিলিয়ে এখানে ৪০ জন কাজ করছে। লকডাউনের কারণে তাদের মজুরি দিতে পারিনি। তবে লকডাউনের আগে যে আয় ছিল, তা ব্যয়ের পর বাড়তি অর্থ থেকে তাদের মজুরির ৩০ শতাংশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে মজুরি প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী বলেন, লকডাউন খুলে দেওয়ার পর নিয়মিত যাত্রী পাচ্ছি। আমরা দিন হিসেবে মজুরিও পাচ্ছি। কিন্তু লকডাউনের সময় আমাদের কোনো মজুরি দেওয়া হয়নি। ‘ডিউটি করলে বেতন’ এমন চুক্তিতে আমরা কাজ করি। ডিউটি করিনি বেতনও পাইনি।