মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় 

আশিকুর রহমান নিজস্ব প্রতিনিধি :- দেশ ও জনগনের অতন্দ্র প্রহরী মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নরসিংদীতে মুক্তিযোদ্ধাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে নরসিংদী শহরস্থ সিএন্ডবি রোডে নরসিংদী জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগ কার্যালয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নরসিংদী জেলার সাবেক ইউনিট কমান্ডার ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা  লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসু উদ্দিন এর সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মত বিনিময় সভার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ লিখিত বক্তব্য বলেন :
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় পরিচয় পত্রে বয়স কম/বেশীর কারণে আজ ভাতা বন্ধ। ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই বোর্ডে যাদেরকে “ক” তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়  আবার ২০২১ সালে তাদেরকে “গ” তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। সরকারি আইন পাশ হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোন মৃত বা জীবিত মুক্তিযোদ্ধার নামে রাস্তা-ঘাট স্হাপন করা হচ্ছে না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বাদ পড়ে আছে, তাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আজকে যারা পঙ্গুত্বধারী রাষ্টীয় সন্মানিভাতা প্রাপ্ত কিছু মুক্তিযোদ্ধা এবং অমুক্তিযোদ্ধা অসৎ পথ অবলম্বন করে অন্যায়ভাবে জনগনের টাকা লুটপাঠের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছে তাদের ভাতা বন্ধ করতে হবে এবং আইনগতভাবে শাস্তি দিতে হবে। ২০২১ সালের যাচাই-বাচাই বোর্ডে লাল বার্তায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাতকারে অধিকাংশ ২০০৫ এর গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ও যুদ্ধ করে নাই মর্মে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বোর্ড “ক” তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। যে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের কমপক্ষে ২ তালিকায় নাম আছে তাদের ভাতা সহ সকল প্রকার সুযোগ- সুবিধা প্রদান করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদদের নির্বাচিত কমিটি না থাকার কারণে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। তিনি আরও বলেন,  মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব পাঠান কোন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা  না। সে নিজেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে। বর্তমানে সে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সকে নিজের সম্পদ মনে করে লুটপাঠ করে খাচ্ছে। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমিটি না থাকায় সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নামে-বেনামে লুটে-পুটে খাচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন অচিরেই এগুলো বন্ধ করতে হবে। নতুবা আগামীদিনে সকল মুক্তিযোদ্ধা সাথে নিয়ে মহাসমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ আন্দোলন গড়ে তুলা হবে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন :- হাজীপুর ইউনিটের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ জব্বার,  কাঠাঁলিয়া ইউনিটের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, পুরাণচর ইউনিটের বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ সোবহান, জেলা মহিলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের সভাপতি শায়েস্তা আক্তার সহ শিবপুর, রায়পুরা, মাধবদী,ও পলাশ থানার বীর মুক্তিযোদ্ধাগন উপস্থিত ছিলেন।