কাবুল বিমানবন্দরে গোলাগুলি নিহত ১, আহত ৩

কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন তিনজন। জার্মান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে  এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাগুলিতে একজন আফগান নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন এবং সংঘর্ষ চলাকালে আহত হন ৩ জন।
জার্মান সেনাবাহিনী টুইট বার্তায় আরও জানায়, বিমানবন্দর গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়া বিমানবন্দর গেটের সামনে হুড়োহুড়িতে ৭ জনের মৃত্যু হয় রোববার। ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল নিয়ন্ত্রণের পর থেকে বিমানবন্দরে ২০ জন নিহত হওয়ার কথা এর আগে জানিয়েছিল তালেবান ও ন্যাটো।

আফগানিস্তান তালেবানের হাতে যাওয়ার পর দেশ ছাড়তে মরিয়া বহু মানুষ ভিড় করছে কাবুল বিমানবন্দরে। চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের দূতাবাস কর্মী, নাগরিক ও আফগান দোভাষীদের সরিয়ে নিচ্ছে সেখান থেকে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকানোর অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো। উৎখাত হয় তালেবান সরকারের।

২০ বছর ধরে চলা তালেবান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সেই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বহু মানুষ। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের অর্থনীতি। কয়েক বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের দোহায় তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেন। গত এপ্রিলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট তারই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তানে চলা ২০ বছরের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে ঘোষণা দেন মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের। এরপর থেকেই তালেবান কাবুল দখলের জন্য আফগান বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াই শুরু করে। সাড়ে তিন মাসের লড়াই শেষে গত রোববার কাবুল দখলে নেয় তালেবান। এরপর ২০ বছর আফগান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে তারা। এর পর থেকেই দেশ ছাড়তে কাবুলে জড়ো হন হাজার হাজার আফগান।