‘মিয়ানমারের জান্তা সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে’

মিয়ানমারে বিতর্কিত সামরিক অভ্যুত্থানের ছয় মাস হতে চলেছে। দেশটিতে চলছে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ। দীর্ঘ ছয় মাস পূর্তির প্রাক্কালে জান্তার বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আর বিগত দিনগুলোতে বিক্ষোভ দমনের নামে নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যা, নির্যাতন চালানোয় জান্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলেছে অধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

শনিবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকালে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের রাজপথে মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা লাল ও সবুজ রঙের পতাকা নিয়ে জান্তাবিরোধী স্লোগান দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে জান্তার সঙ্গে যে কোনো আলোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, শর্তমুক্ত ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হতে হবে জান্তা সরকারকে।

এ দিকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের ওপর সশস্ত্র দমন–পীড়ন চালিয়েছে জান্তা। আটক বিরোধী পক্ষের ওপর চালানো হয়েছে নির্যাতন। অনেককে হত্যা করা হয়েছে, যা মানবতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সংগঠনটির এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, নিজ দেশের জনগণের ওপর চালানো দমন–পীড়ন, নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে মিয়ানমারের জান্তা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। তবে অধিকার সংগঠনটির এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থান হয়। আটক করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিসহ দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের। তাদের নামে করা হয় একাধিক মামলা। বাতিল করা হয় গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল। ওই নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পেয়েছিল। ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে অভ্যুত্থান ঘটায় জান্তা।

অভ্যুত্থানের পরপরই রাজপথে বিক্ষোভে নামেন মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি দুটো— সেনাশাসন তুলে নেওয়া ও সু চিসহ রাজবন্দীদের মুক্তি। জান্তার দমন–পীড়নে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৯৩৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন অব পলিটিকাল প্রিজনার্স (এএপিপি)। আটক করা হয়েছে শিল্পী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ প্রায় সাত হাজার মানুষকে।

ছায়া সরকার গঠন করে গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সব মিলিয়ে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকির মুখে রয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে জান্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

যদিও মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। পাঁচ দফার ভিত্তিতে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে জোটের সদস্যরা।