পোস্তগোলা সেতু দিয়ে ঢাকায় ঢুকছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

লকডাউন উপেক্ষা করে পোস্তগোলা সেতু দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ রাজধানীতে ঢুকছে। মানুষের চাপ বেশি হওয়ায় পুলিশও হাল ছেড়ে দিয়েছে। এতে ঢাকায় ফের করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের লোকজন জানান, তারা বিভিন্ন রুটে সিএনজি-অটোরিকশা করে মাওয়া ঘাটে আসেন। ফেরিতে পদ্মানদী পার হন। মাওয়া ঘাটে নেমে আবার সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে করে কেরানীগঞ্জে পোস্তগোলা সেতুর দক্ষিণ অংশে নামেন। সেতুতে পুলিশের চেকপোস্ট থাকায় হেঁটে সেতু পার হন। পরে পোস্তগোলা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে যান তারা।

দুপুর সাড়ে ১২টায় পোস্তগোলা সেতু দিয়ে হেঁটে পার হচ্ছিলেন দুই সহোদর আরিফ হোসেন ও মো. হাসান। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল। আরিফ হোসেন জানান, ভোরে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছেন। সিএনজি, অটোরিকশা করে জাজিরা ঘাটে আসেন। ফেরি পার হয়ে মাওয়া থেকে এক মোটরসাইকেলে ৪০০ টাকায় পোস্তগোলা সেতুর দক্ষিণ অংশে নামেন। পুলিশের ভয়ে মোটরসাইকেল চালক ঢাকায় ঢুকতে রাজি হননি।

গোপালগঞ্জ থেকে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে পোস্তগোলা আসেন নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, তিনি বাড্ডার একটা কোম্পানিতে চাকরি করেন। লকডাউনেও তারা আগামী শনিবার থেকে অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই ঝুঁকি নিয়েই তারা ঢাকায় ফিরছেন।

পোস্তগোলা সেতুর উত্তরাংশে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশের সার্জেন্ট ফারুক হোসেন। তার সঙ্গে পুলিশের আরও ১০ জন সদস্য রয়েছেন। তারা ঢাকামুখী গাড়ি ঢুকতে এবং বের হওয়া গাড়ির কাগজপত্র দেখভাল করেন।

সার্জেন্ট ফারুক হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু কিছু মাইক্রোবাস যাত্রী পরিবহনের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার সকালে এমন দুটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ফারুক হোসেনের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল পাশেই বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল আলম। তিনি  বলেন, মানুষ বিভিন্ন উপায়ে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। কারণ, পোস্তগোলা থেকে তাদের ফিরিয়ে দিলে বাড়ি ফিরে যাওয়ারও উপায় থাকবে না। তাই আমরা শুধু গণপরিবহন বন্ধ রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছি।