পশ্চিমকে বিশ্বাসে কাজ হয় না: ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সাথে আলোচনায় জড়িয়ে ইরানের বিদায়ী সরকারের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পশ্চিমকে বিশ্বাসে কাজ হয় না। বুধবার তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে খামেনির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরকে দেশটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির অন্যতম কূটনৈতিক অজর্ন হিসেবে দেখা হয়। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পায় ইরান।0

কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সেটি অচল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে খামেনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা উচিত। এই সরকারের সময়ে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, পশ্চিমকে বিশ্বাসে কাজ হয় না।

ওয়াশিংটনকে চুক্তিতে ফেরাতে গত এপ্রিল থেকে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে রুহানির সরকার। তবে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম রাইসির কাছে আগামী মাসে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে এই চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

খামেনি বলেছেন, ২০১৫ সালের চুক্তিতে ফেরার বিষয়ে ওয়াশিংটন কিছু শর্ত দিয়েছে। তার মধ্যে একটি বাক্য আছে… যে, ভবিষ্যতে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে অথবা আমাদের কোনও চুক্তি হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তির বিষয়ে যে কয়েকটি সমালোচনাকে প্রধান হিসেবে হাজির করেছিলেন; তার মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টানতে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ব্যর্থতা অথবা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে তেহরানের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে না পারা। কিন্তু তেহরান বরাবরই ওই চুক্তিতে পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে অন্য কিছু আনার বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ‘ভবিষ্যতে চুক্তিটির লঙ্ঘন করা হবে না’ বলে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেটিরও সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

‘আপনি যখনই পশ্চিমাদের সাথে চুক্তি অথবা পশ্চিম এবং আমেরিকার সাথে আলোচনা স্থগিত করছেন, তখন সবকিছু থমকে যায় এবং এর কোনও অগ্রগতি হয় না। কারণ তারা সহায়তা করে না। সর্বোপরি তারা শত্রু।’

ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলেও দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চুক্তিতে ফিরতে তার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। চুক্তির অন্য পক্ষ ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং রাশিয়ার সাথে সরাসরি আলোচনা করলেও ইরানের সঙ্গে পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

রুহানির উত্তরসূরী হিসেবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা রাইসি অতি-রক্ষণশীল হলেও ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অবসান দরকার’ যুক্তি দিয়ে পারমাণবিক চুক্তির আলোচনার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছেন।