জেল-জরিমানা করেও ঘরে রাখা যাচ্ছেনা

আশিকুর রহমান নিজস্ব প্রতিনিধি :  নরসিংদীতে কঠোর লকডাউনের ২য় দিনে ৩৭,২০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে মোবাইল কোর্ট। সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় ঢেউয়েল ২য় পর্যায়ে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের ২য় দিন ২৪ এপ্রিল শনিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল নেই বললেই চলে।

তবে শহরের রাস্তায় রিক্সা, অটোরিক্সা, সিএনজি চলাচল করতে দেখা গেছে। পাড়া- মহল্লায় দোকানপাট খোলা ছিল। অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের রাস্তার প্রধান প্রধান মোড়ে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। লকডাউন বাস্তবায়নে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রট এবং জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান এর নির্দেশনায় ৬টি উপজেলায় একযোগে চলছে লকডাউন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ অমান্য করার দায়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৭৫টি মামলায় ৩৭,২০০/- ( সাইত্রিশ হাজার দুইশত) টাকা অর্থদন্ড আদায় করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সহযোগিতা প্রদান করেন।

 

জেলা শহরে লকডাউন কড়াকড়ি দেখা গেলেও জেলা শহরের পাশ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে লকডাউনের বিধিনিষেধদের কিছুই ছিলো না। নজরপুর, করিমপুর, হাজীপুর ইউনিয়নগুলোতে দেখাগেছে, দলবেঁধে মানুষ মুখে মাস্ক না পড়ে একসাথে বসে চায়ের দোকানে অকারণে আড্ডা দিচ্ছে। দোকানপাট স্বাভাবিকভাবে খোলা ছিলো। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে মুখে ছিলনা মাস্ক। নজরপুর ইউনিয়নে নওয়ার আলী গাজী স্কুল মাঠে ও করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত দর্শক সমাগম করে ফুটবল খেলা হচ্ছে। এবিষয়ে নওয়াব আলী গাজী স্কুল মাঠে খেলা দেখতে আশা সেলিম মিয়া বলেন, করোনা হচ্ছে শহরে, আমাদের গ্রামে করোনা টরোনা বলতে কিছুই নাই। এগুলো হলো বড়লোকেদের রোগ। আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের করোনা হবেনা। মুখে মাস্ক না পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এগুলো আমাদের এখনে না বলে শহরে গিয়ে বলেন।

 

আমরা অনেক ভাল আছি। সরকার শুধু শুধু লকডাউন দিছে। তিনি আরও বলেন, দেখেন আমরা এতগুলো মানুষ একত্রে বসে মাস্ক ছাড়া আড্ডা দিচ্ছি, আমাদেরতো করোনা হয়না, এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন উক্ত ব্যক্তি। এবিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক বলেন, বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ যেভাবে নরসিংদী জেলায় বিস্তার ঘটছে, প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কোন আপোষ নয়। প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। শহরের বাইরের ইউনিয়নগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি করতে হবে ও গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। যেভাবে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার জানা মতে বর্তমানে নরসিংদী জেলা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০০ জন। আরও যদি রোগী বাড়ে তাহলে চিকিৎসা ব্যবস্হা ভেঙ্গে পড়বে। আমরা স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটু সচেতন হলেই করোনা নামক ভাইরাস কে প্রতিরোধ করতে পারবো। অত্যন্ত এ ১৪ দিন ঘরেই থাকুন মাস্ক ব্যবহার করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, নিরাপদে থাকুন, সুস্হ থাকুন।