সদরঘাটে যাত্রীর চাপ কম

সাধারণ সময়ে ঈদুল ফিতর বা আজহা উপলক্ষে আট থেকে ১০ দিন আগে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকে। কিন্তু এবার এই টার্মিনালের চিত্র ভিন্ন। এখনো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ভিড় সেভাবে চোখে পড়েনি।

তবে এখন যে পরিমাণ যাত্রী সদরঘাট টার্মিনালে লঞ্চে উঠছেন তাদের অনেকই স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদাসীন। লঞ্চের ভেতর যাত্রীদের অধিকাংশই মাস্ক পরছেন না। কোনো কোনো লঞ্চে জীবাণুনাশক টানেল এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ঢাকা নদী বন্দর সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে লঞ্চ মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছেন। টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছেন। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে জরিমানা করা হচ্ছে।

পুরান ঢাকার লালকুঠির ঘাট থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত সদরঘাট টার্মিনাল বিস্তৃত। শনিবার (১৬ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, এই টার্মিনালে অর্ধশতাধিক দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চ রয়েছে। প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রী তোলা হচ্ছে। কিন্তু লঞ্চের ভেতরে গিয়ে গিয়েই মাস্ক খুলে ফেলছেন যাত্রীরা। যে যার মতো করে বসছেন। বিআইডব্লিউটিএ মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বললেও কেউ তা মানছেন না। ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখা যায়নি।

সুন্দরবন-৭ লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭০০ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই লঞ্চে দুই শতাধিক যাত্রী উঠেছেন। তাদের অধিকাংশই লঞ্চের নিচতলায় চাদর বিছিয়ে বসেছেন। এই লঞ্চটি বিকেল ৫টায় সদরঘাট ছেড়ে যাবে।

লঞ্চের যাত্রী রুবেল হোসেন বলেন, সকাল থেকে মাস্ক পরে ছিলাম। দুপুরে রোদ বেশি থাকায় নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই তিনি মাস্ক খুলেছেন বলে দাবি করেন।

ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক জয়নাল আবেদীন  বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ২৮টি লঞ্চ সদরঘাট থেকে ছেড়ে গেছে। ৫৮টি লঞ্চ ঘাটে নোঙর করেছে। বিকেলে অর্ধশতাধিক লঞ্চ যাত্রী নিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চালে ছেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত ত্বকের আমি করছি। এক্ষেত্রে লঞ্চের ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। কাল রোববার ও আগামী সোমবার যাত্রী সংখ্যা বাড়লে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান তিনি।