হেঁচকি সমস্যায় হাসপাতালে বোলসোনারো

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো। বুধবার তাকে প্রথমে একটি সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঠানো হয়েছে সাও পাওলোর অন্য একটি হাসপাতালে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ১০ দিন ধরে ক্রমাগত হেঁচকি উঠছে বোলসোনারোর। চিকিৎসকদের ধারণা, তার পাকস্থলীতে একটি ব্লক রয়েছে। তা থেকেই এই সমস্যার সৃষ্টি। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের অস্ত্রোপচার করা হতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবর অনুসারে, গত ৩ জুলাই দাঁতের চিকিৎসা করিয়েছিলেন ৬৬ বছর বয়সী এই নেতা। এরপর থেকেই ভয়ঙ্করভাবে হেঁচকি উঠছে তার।

বোলসোনারো বর্তমানে সাও পাওলোর দ্য ভিলা নোভা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার রাতে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট কিছুদিন হাসপাতালেই থাকবেন। তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রাজিলের যোগাযোগমন্ত্রী ফাবিও ফারিয়া জানিয়েছেন, আগামী দুইদিন প্রেসিডেন্টের সকল দাফতরিক কাজ স্থগিত রাখা হচ্ছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানায়, ২০১৮ সালে একটি অনুষ্ঠানে বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এক সমর্থক বোলসোনারোর পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। ওই ছুরিকাঘাতের পর একাধিকবার পেটের সমস্যা হয়েছে প্রেসিডেন্টের। এ নিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে অনেকবার। সাম্প্রতিক হেঁচকি সমস্যাও ওই ঘটনার জন্য বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।

 

গত কয়েকদিনে বারবার হেঁচকি তুলতে দেখা গেছে বোলসোনারোকে। সম্প্রতি এক সভায় কথা বলার সময় ক্রমাগত হেঁচকি উঠছিল তার। এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। এরপর একটি রেডিওর অনুষ্ঠানেও একই ঘটনা ঘটে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর। সমীক্ষা বলছে, জনসমর্থনে বোলসোনারোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা। করোনাকালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট যেভাবে মহামারিকে হেলাফেলা করেছেন, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ দেশটির জনগণ। বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। কিন্তু টিকাদান নিয়ে মাথা ঘামাননি প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো। এ নিয়ে সমালোচনাকেও গায়ে মাখতে চাননি তিনি। আগামী নির্বাচনে তাকে এসবের ফল ভুগতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।