কৃষকের বাজারে আগ্রহ বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার

রাজধানীতে পাইলটিং প্রকল্পের অংশ হিসেবে চালু করা মিরপুরের কৃষকের বাজারে দারুণ আগ্রহ দেখিয়েছেন ক্রেতারা। এতে বিক্রেতারাও ক্রমে বাড়াচ্ছেন তাদের পণ্যের সরবরাহ। নগরীর আশপাশের সব ওয়ার্ডে এমন কৃষকের বাজার তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজার তৈরির সমন্বিত উদ্যোক্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে ‘কৃষকের বাজার : নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ সবজি সহজলভ্য করার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সম্মিলিত উদ্যোগে রাজধানীর মিরপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ট ব্লকে কৃষকের বাজারের কার্যক্রম গত ১৮ জুন থেকে শুরু হয়েছে। সাভারের বিরুলিয়া থেকে ১০ জন কৃষক তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন নিরাপদ সবজি এ কৃষকের বাজারে এনে সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করছেন।

এ উদ্যোগ নিয়ে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় সভাপতি ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পেয়ারি। তিনি বলেন, মানুষকে কাজ করতে হলে সবার আগে স্বাস্থ্য ভালো থাকতে হবে আর তার জন্য প্রয়োজন খাবার। কৃষকের বাজার থেকে একদিকে মানুষ নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে কৃষকরা পাচ্ছেন তাদের ন্যায্যমূল্য। এজন্য এই বাজারকে ক্রেতা ও কৃষকরা খুবই পজিটিভলি নিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারের সমন্বয় দরকার। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে নগর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে এ ধরনের বাজারের সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা নিয়ে আমরা সরকারের সাথে কাজ করতে চাই।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা এই পাইলটিং প্রকল্পে সফল হয়েছি। সরকার যদি মনে করে তাহলে এ প্রকল্পটি বিভিন্ন নগরে বিস্তার করা সম্ভব।

এ বাজারে মাধ্যমে বিদ্যমান সিন্ডিকেট সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এছাড়া শুধু সবজি নয়- চাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ফলের নিত্যপ্রয়োনীয় বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা মেটানো ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তারা বলেন, এ বাজারের মাধ্যমে কৃষক ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি সম্পক গড়ে দেয়া সম্ভব, যা ভবিষ্যতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।