সিরিয়ায় সেনা-সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র সিরিয়ায় চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এবার সরকারি কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের জন্য ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। রবিবার (১১ জুলাই) ডিক্রি জারির মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধির আদেশটি দেন তিনি।

বহুদিন ধরে গৃহযুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে মুসলিম রাষ্ট্র সিরিয়া। দেশটিতে রুটির দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধির একদিন পর এমন সিদ্ধান্ত নিল প্রেসিডেন্ট আসাদ। চলমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে বহুবার নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতেও সমাধানের পথ খুঁজে পাননি প্রেসিডেন্ট।

সিরিয়ার প্রধান খাদ্য রুটির দাম বাড়ার পাশাপাশি সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। প্রধান জ্বালানি ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৮০ শতাংশ।

এক দশক ধরে নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে সিরিয়ার অর্থনীতি। কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটিতে বহুদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধ, পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাপক দুর্নীতি।

এছাড়া সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ লেবাননে অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবও পড়েছে দেশটির ওপর। সবশেষ সিরিয়ায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে ২০১৯ সালে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী সিরিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে। খাদ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে ৬০ শতাংশ জনগণ। জাতিসংঘ বলছে, সিরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট চলছে এখন।

এ দিকে শনিবার (১০ জুলাই) সিরিয়া থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ যে সেনা মোতায়েন করেছে তা স্থায়ী হবে না বলেও আশা প্রকাশ করে দেশটি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যালেক্সান্ডার ল্যাভরেন্তিয়েভ বলেন, সিরিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া মাত্রই এসব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করে মস্কো। রাশিয়ার সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জানান, সিরিয়া থেকে যে কোনো মুহূর্তে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা শুরু হতে পারে।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সিরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ব্যাপারেও ওয়াশিংটন একই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা করছেন।

এই রুশ কূটনীতিক আরও বলেন, বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করে নিলে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সমুন্নত হবে। লুণ্ঠনের হাত থেকে রক্ষা পাবে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ। সিরিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনকে তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এসব সম্পদ সিরিয়ার জনগণের প্রাপ্য এবং তা সেদেশের সকল জাতিগত গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।

ল্যাভরেন্তিয়েভ সিরিয়ায় তৎপর মার্কিন-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দামেস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। পরে বলেন, নিজ দেশের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের মাধ্যমে কারো স্বার্থই হাসিল হবে না।