চীন রাশিয়ায় নজর বাড়াতে আফগানিস্তান ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র

দ্রুতই আফগানিস্তান ছাড়ছে মার্কিন সেনারা। এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার পুরোভাগে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু যে পরিবেশে ও গতিতে সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষক মহলের অনেককেই তাজ্জব করেছে। তবে এর চেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, আফগান যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতায় বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল ওয়াশিংটন। সে কারণেই এখন থেকে চার বছর আগেই আফগানিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই একটা বড় কারণও ছিল। আর সেটা হচ্ছে, ঐতিহ্যগত ভূ-রাজনীতি ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় চীন ও রাশিয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা। বাইডেন হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ প্রেসিডেন্ট যিনি আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম দেখাশোনা করছেন।

 

চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই প্রথম ঘোষণাটি আসে। বলা হয়, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সব মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছাড়বে। ওইদিন টুইন হামলার ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। কিন্তু গত শুক্রবারই আরেক ঘোষণায় বাইডেন জানালেন, না, ১১ সেপ্টেম্বর নয়। ৩১ আগস্টের মধ্যেই সেনারা দেশে ফিরবে। তালেবান বিদ্রোহীরা যখন আফগানিস্তানে একটার পর একটা এলাকা দখল করে নিচ্ছে, ঠিক তখন এই বক্তব্য নিয়ে সামনে আসেন বাইডেন। যে গতিতে সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, বক্তব্যে সেটার পক্ষেও ফের সাফাই দেন তিনি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’র নামে আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে এতে যোগ দেয় পশ্চিমারাও। সেই থেকে গত ২০ বছর ধরে যুদ্ধ করছে তারা।

 

তাদের এই যুদ্ধ মূলত দুই রাষ্ট্রহীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান ও আল কায়দার বিরুদ্ধে। কিন্তু দুই দশকের এই যুদ্ধ থেকে অর্জন একেবারেই ‘জিরো’। উপরন্তু এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শক্তির ক্ষয় হয়েছে। হতাহত হয়েছে হাজার হাজার সেনা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এই যুদ্ধে ব্যয় হয়েছে লাখ কোটি ডলার, যা মার্কিন জনগণের পকেট থেকে এসেছে। আফগান যুদ্ধ থেকে কোনো প্রাপ্তি নেই, শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি। তা সত্ত্বেও যুদ্ধের ইতি টানার কোনো আগ্রহই দেখাননি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। অনেক পরে হলেও বিষয়টি বুঝতে পারেন বাইডেনের পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগান যুদ্ধকে ‘বিপর্যয় ও সময়ের অপচয়’ অভিহিত করে লড়াইয়ের ইতি টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসেন তিনি। অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো শুধু প্রতিশ্রুতিতেই আটকে থাকেননি।