মরদেহ শনাক্ত হলে ক্ষতিপূরণ : হাইকোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেডের সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে মর্মান্তিক ও দুঃখজনক উল্লেখ করে উচ্চ আদালত বলেছেন, আগে মরদেহগুলো শনাক্ত হোক, তারপর ক্ষতিপূরণের বিষয়ে দেখা হবে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছি।

আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও আহত, নিহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে রোববার (১১ জুলাই) চারটি সংগঠনের করা ভার্চ্যুয়াল রিটে এমন মন্তব্য করেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির পক্ষে এ আবেদন করা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্ন, সারা হোসেন, এস এম রেজাউল করিম, অনীক আর হক ও শাহীনুজ্জামান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

আইনজীবী সারা হোসেন আবেদন উপস্থাপনের পর আদালত বলেন, একটা খুব দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। সমস্ত জাতি আমরা শোকাহত এবং আশা করিনি এরকম।

‘এখানে একটা ফৌজদারি মামলা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তদন্ত হবে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কতটুকু ঠিক? ঘটনার পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান গিয়েছেন। সরকারিভাবে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। আজ পত্রিকায় দেখেছি শ্রম সচিব গিয়ে আহতদের হাসপাতালে দেখেছেন। তবে তা পর্যাপ্ত কিনা জানি না। ’

আদালত বলেন, যে ডেথগুলো হয়েছে ৫২টি মরদেহের মধ্যে নিউজে দেখেছি মাত্র একটি হস্তান্তর হয়েছে যেটা শনাক্ত করা হয়েছে। ৫১টি মরদেহই এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আপনারা জানেন ২১ দিনের আগে সম্ভব হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত শনাক্ত হয়ে পরিবারের কাছে দেওয়া না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত কীভাবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হবে। আপনাদের অপেক্ষা করার দরকার। আপনাদের উদ্বেগ ঠিক আছে।

এক পর্যায়ে আদালত বলেন, একটা রিজেইনবল টাইম যেতে দেন। বিষয়টা কোর্টের নজরে আছে। আপনারা নজরে এনেছেন। আমরা জিনিসটা অবজার্ভ করছি। আপনারাও করেন। মাত্র ২/৩ দিন হলো। সব কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে। দেখা যাক কতটুকু স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে বা আদৌ হচ্ছে কিনা। বা দেরি হচ্ছে কিনা। আমাদের রিমেডি তো আছে। কোর্টের দরজা বন্ধ হচ্ছে না। আমরা কোর্ট কিন্তু সবার কর্মকাণ্ড অবজার্ভ করছি।

এছাড়া আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি দেখতে স্বাস্থ্য সচিব ও শ্রম সচিবের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলকে যোগাযোগ করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস, হাসেম ফুডস লিমিটেড এবং হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে কোটি টাকা করে এবং আহতদের ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা করে দিতে আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল ও আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের আবেদন করা হয়েছে।

গত ৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ২৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ সময়ের মধ্যে ঝরে যায় ৫২ প্রাণ। আহত হন অনেক শ্রমিক।

এ ঘটনায় হত্যা ও হত্যার অভিযোগে ৩০২, ৩২৬, ৩২৫, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭ ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেমসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ১০ জুলাই শনিবার আটজনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন নারায়ণগঞ্জের আদালত।

গ্রেফতার আটজন হলেন- সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম (৭০), তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম ওরফে সজীব (৩৯), তারেক ইব্রাহীম (৩৫), তাওসীব ইব্রাহীম (৩৩), তানজীম ইব্রাহীম (২১), শাহান শান আজাদ (৪৩), মামুনুর রশিদ (৫৩) ও মো. সালাউদ্দিন (৩০)।