রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি : লাশ শনাক্তে ৪৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তিদের শনাক্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৫ মৃতদেহের বিপরীতে ৪৮ জন নিকটতম স্বজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারি ডিএনএ এনালিস্ট নুসরাত ইয়াসমিন বলেন, ‘আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কাজ শুরু করেছি। গতকাল রাত থেকে শনিবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত ৪৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ৩৫ জন মৃত ব্যক্তির বিপরীতে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমাদের নমুনা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। যারা মৃত ব্যক্তিদের স্বজন বলে দাবি করবেন তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।’

কতদিনের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সাধারণত ডিএনএ নমুনার ফল পেতে ২১ থেকে ৩০ সময় প্রয়োজন হয়। এ সময়ের মধ্যে সংরক্ষণ করা ব্যক্তিদের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হবে।’

এদিকে নিহত শ্রমিকের মরদেহ দ্রুত দাফনে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাকসুদ।

তিনি বলেন, ‘জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ইতোমধ্যে ১৫টি মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি মরদেহ রাখা হচ্ছে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে। মরদেহগুলো আপাতত মর্গে রাখা হলেও দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা না করা হলে পচে-গলে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটাবে।’

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল ৪৮টি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। দু-একটি ছাড়া বাকি মরদেহগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। দেখে চেনার কোনো উপায় নেই। তারা ডিএনএর মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় খুঁজে বের করতে নমুনা হিসেবে বুকের পাঁজর সংরক্ষণ করেছেন। লাশগুলো দেখে যেহেতু চেনার কোনো উপায় নেই তাই রানা প্লাজা ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ যেভাবে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল তাদের লাশও দ্রুত দাফন করে ফেলা দরকার জানান তারা।

তিনি জানান, এ ব্যাপারে তারা পুলিশের কাছে প্রস্তাবনা ও পরামর্শ দেবেন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাশগুলো কখন দাফন করা হবে সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রথম দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে ২৬ নারীসহ ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। ২৯ ঘণ্টা পর ৯ জুলাই রাতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।