গুলশানে নির্মাণাধীন ভবনে এডিসের লার্ভা, প্রকৌশলীর ৩ মাসের জেল

রাজধানীর গুলশানে নির্মাণাধীন একটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় এক প্রকৌশলীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া আরেক ভবনের মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

শনিবার (১০ জুলাই) গুলশান-২ এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট-ওয়েস্ট প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে জরিমানা এবং একই এলাকায় ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সাইদ হোসেনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ সময় নির্মাণাধীন ভবন দু’টিতে লাল কালিতে ক্রস চিহ্ন এবং সতর্কতামূলক স্টিকার লাগিয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা।

এদিকে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করতে হবে বলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

শনিবার গুলশান-২ এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক সংলগ্ন ৮৬ নম্বর রোড এলাকায় এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ৮ দিনব্যাপী মশক নিধনে চিরুনি অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় মেয়র এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরে তার উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব আজ করোনা মহামারির মধ্যে রয়েছে। এ করোনাকালে যাতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় কারও মৃত্যু না হয়, সেজন্যই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে ১১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত শুক্রবার ব্যতীত ৮ দিনব্যাপী মশক নিধনে চিরুনি অভিযান পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, রোদ-বৃষ্টির মিশেল আবহাওয়া এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রত্যেককে দায়িত্ববান হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তারকে রোধ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, নিজেদের বাসাবাড়িতে ফুলের টব, ছাদ কিংবা অন্য কিছুতে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে নগরবাসীর প্রতি আমার আহ্বান ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবার ঢাকা’ মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে যে কোনো নাগরিক অতি সহজেই এলাকার রাস্তা, মশা, সড়ক বাতি, আবর্জনা, জলাবদ্ধতা, পাবলিক টয়লেট, নর্দমা ও অবৈধ স্থাপনা এ আটটি বিষয়ে সরাসরি তার মতামত কিংবা অভিযোগ ডিএনসিসির কাছে তুলে ধরতে পারছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধানও পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ডিএনসিসি এলাকার যেসব ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, সেই তথ্য ডিএনসিসিতে সরবরাহ করা হলে সংশ্লিষ্ট রোগীর বাড়ি ও তার আশপাশে মশার ঔষধ স্প্রে করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোনো ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায়সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।