নজরদারি অভাবে জৌলুশ হারাচ্ছে বীরগঞ্জের জাতীয় উদ্যান

মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, বীরগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধি: নজরদারি ও সংস্কারের অভাবে জৌলুশ হারাচ্ছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় উদ্যান। তবুও কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। সেই সুযোগে গাছ কেটে জমি দখল করছেন প্রভাবশালীরা। স্থানীয় বাসিন্দা কাউন্সিলর তাইজুদ্দিন বলেন, জন্মের পর হতে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের ধারে শালবনটি দেখছি, আগে যেরকম ছিল, এখন সেরকম নেই। গাছ কেটে জমি দখলে নিয়ে বাগানটি ছোট করে ফেলেছেন প্রভাবশালীরা। চারা অবস্থায় কেটে ফেলায় গাছ বড় হতে পারছে না। অনেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাগানের মাটি, বালু তুলে পুকুর আকৃতির গর্ত করেছেন। ফলে অসংখ্য শতাব্দী গাছ ভেঙে পড়ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা গদাধর রায় বলেন, মাকড়াই ও জগদল মৌজার ১৬৯.৬২ একর জমির ওপর এ জাতীয় উদ্যান। এর আশপাশে ৫ থেকে ৬ একক জমি বেদখল রয়েছে। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হয়েছে। বাগান দেখাশুনার জন্য আমি ও মালি ছাড়া কেউ নেই। ২০১১ সালের ২৪ ডিসেম্বরে সরকার জাতীয় উদ্যান ঘোষনা করেছে, যার মূল লক্ষ্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা। তবে সীমানা প্রাচীর না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। আশেপাশের মানুষ ও গরু-ছাগলের অবাধে ঢুকে পড়ছে। বন্যপ্রাণী জন্য বাগানের ফাঁকা জায়গায় ঔষদি গাছ আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, জাম, জামরুল, জলপাই, পিতরাজ, হলুদ, চিকরাশি, বেল, কদম, গোলাপজাম, কদম, জাম্বুরা, চালতা, শিদা, শিমুল, কাঞ্চন সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে। এখানে আমাদের বসবাসের বাড়িঘর গুলো নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে জনবল ও বসবাস উপযোগী থাকার ব্যবস্থা দরকার। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ইয়াসিন আলী জানান, বর্তমান সরকার শালবনটিকে দেশের দর্শনীয় স্থানের অর্ন্তগত করেছে। এটি অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যসম্মত মুক্ত বাতাসের ভরপুর। নজরদারির অভাবে চোর ও জুয়াড়িদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। অনেক সময় অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কথাও শোনা যায়। চিত্তবিনোদনের জন্য এটি সংস্কার জরুরি। পৌর মেয়র মো. মোশারফ হোসেন বাবুল জানায়, শালবনটি বন বিভাগের আওতায় রয়েছে। কিছু পাতা কুড়ানি গাছের চারা কেটে পরিবেশ নষ্ট করছে। বন বিভাগের সৌন্দর্য বাড়াতে সহযোগিতা চাইলে পৌরসভা অবশ্যই করবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাদের জানান, জাতীয় উদ্যানটি উপজেলা পরিষদের পাশে, এর পরিবেশ মনোরম। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢেপা নদীর সৌন্দর্য্য দ্বিগুন বাড়িয়েছে। জঙ্গলের শাল, বতে, বাঁশ, শিমুল, শিশু, সোনালু গাছ রয়েছে। এ মধ্যে শাল হচ্ছে এ জঙ্গলরে প্রধান গাছ। এছাড়াও পাখি, সাপ, স্বরীসৃপ, বানর রয়েছে। মাঝে মাঝে ছুটে যাই শালবনটিতে ঠান্ডা বাতাসের লোভে। এই জৌলুশ ফিরে পেতে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা দরকার।