বাবার মৃত দেহের পাশে শিশুর কান্নার ভিডিও ভাইরাল

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ বাবার মৃত দেহের পাশে বসে ৭ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মের কান্নার ভিডিও ভাইরাল। সেই শিশুর পরিবারের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলেন নওগাঁর প্রশাসন। শিশুর পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হলো নগদ ১০ হাজার টাকা, এছাড়াও একটি মুদি দোকান পাচ্ছেন পরিবারটি।
উল্লেখ্য- গতকাল সোমবার সকাল ১১ টারদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নওগাঁর পোরশা উপজেলার মজিবুর রহমান বিস্বাস নামে এক ব্যাক্তিকে তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ও মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৭) নিয়েগেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করার পর মৃতের স্ত্রী স্বামীর মৃতদেহ বাড়িতে নিতে গাড়ী নেওয়ার জন্য বাহিরে গেলেও বাবার মৃতদেহর পাশে বসে কান্না করতে থাকেন। শিশুর কান্নার ভিডিও সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ভাইরাল হলে আজ মঙ্গলবার সেই ভিডিওটি নওগাঁর সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব হারুন অর রশিদ মহোদয়ের নজরে আসে।
ভিডিও দেখার পরই জেলা প্রশাসক পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের কলনী বাজার গ্রামের মৃত মজিবুর রহমান বিস্বাসের বাড়ি খুঁজে বের করার মাধ্যমে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেই পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং পাশাপাশি একটি মুদি দোকান করে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।
মৃত মজিবুর রহমান বিস্বাসের স্ত্রী তানজিলা বেগম জানান, প্রায় সপ্তাহ ধরে জ্বর ও সর্দি এবং সর্বশেষ শ্বাস দেখাদিলে স্বামীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এর পরই আমি ও শিশু সন্তান মরিয়ম সোমবার সকাল ১১ দিকে স্বামী মজিবুর রহমান বিস্বাসকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরই দায়িত্বরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষনা করেন। এসময় বাবাকে হাঁরিয়ে মৃতদেহর পাশেই বসে কান্না করছিল আমার ছোট মেয়ে মরিয়ম। সেই ভিডিও কেউ একজন ধারণ করে ফেসবুকে দেন। স্ত্রী তানজিলা আরো জানান, আমার স্বামী ভ্যান যোগে মেলামাইন সামগ্রী ফেরি করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
এব্যাপারে নওগাঁ জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান,  ভিডিওটি ফেসবুকে দেখার পর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শিশুটির বাড়ি খুঁজে বের করে পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে বলি। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মৃত মজিবুর রহমান বিস্বাসের বাড়ি খুঁজে বের করে তাঁর পরিবারের খোঁজ খবর নেন পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তিনি আরো জানান, মৃত ব্যক্তির পরিবারে স্ত্রী, ছোট দু’টি কন্যা সন্তান এবং ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারটি অসহায় এবং আয়ের অন্য কোন উৎস না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর স্ত্রী তানজিলার হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও একটি মুদি দোকান করে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।