টেকনাফে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ ৩ জনের নামে

টেকনাফ  কক্সবাজার  প্রতিনিধি: ভুয়া বিল ভাউচারে কক্সবাজারের টেকনাফে পেনশনের নামে সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ। এই কর্মকর্তা জেলা প্রানি সম্পদ কার্যালয়ের সাহাব উদ্দীন নামে একজন ভুয়া কর্মকর্তা সাজিয়ে দুইটি পেনশন বিলের ৩৩ লাখ ৬১ হাজার টাকার এডভাইজ ও বিল তৈরি করে গত ২৯ জুন টেকনাফ সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে চট্রগ্রাম আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার সাহাব উদ্দীনের হিসাব নম্বরে নিয়ে যায়। পরেবর্তিতে বিষয়টি টের পেয়ে সোমবার সকালে টেকনাফ সোনালী ব্যাংক কতৃপক্ষের চেষ্টায় সরকারী ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৮২ টাকা চট্রগ্রাম আগ্রাবাদ শাখা থেকে টেকনাফ শাখায় ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসার শাহ নেওয়াজ সুকৌশলে গত ২২ জুন উপজেলা প্রানি সম্পদ কার্যালয়ের সাহাব উদ্দীন নামে একজন ভুয়া কর্মচারী সাজিয়ে দুইটি পেনশন বিলের ৩৩ লাখ ৬১ হাজার টাকার এডভাইজ ও বিল তৈরি করেন। এই এডভাইজ ও বিল গত ২৯ জুন টেকনাফ সোনালী ব্যাংক শাখায় পাঠানো হয়। এসময় এডভাইজ ও বিলের হার্ড ও সফট কপি ব্যাংকে জমা দিয়ে চট্রগ্রাম আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার সাহাব উদ্দীনের হিসাব নং এ জমা করার জন্য বলা হয়।

এডভাইজ ও বিল মোতাবেক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত টাকা বেনিফিসিয়ারি সাহাব উদ্দীনের একাউন্টে জমা করে দেয়। পরে গত ৪ জুলাই উক্ত পেনশন বিল নিয়ে সন্দেহ হলে টেকনাফ সোনালী ব্যাংক শাখা কর্তৃপক্ষ উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসারের প্রেরিত পেনশনের এডবাইজ ও বিল সত্যতা যাচাই-বাচাই করতে মাঠে নামে। এর অংশ হিসাবে বেনিফিসিয়ারি, হিসাব রক্ষন অফিস, প্রাণী সম্পদ অফিস ও চট্রগ্রাম ব্যাংকে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে, বিলটি ভূয়া এবং ইতিমধ্যে বেনিফিসিয়ারি শাহাব উদ্দিন নামে কোন সরকারী কর্মকতা/কমচারী পেনশনে যায়নি। এরপর ব্যাংক কতৃপক্ষ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে চট্রগ্রাম আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা থেকে পেনশন বিলের টাকা গুলো স্টপ পূর্বক টেকনাফ শাখায় ফেরত আনা হয়। এর ফলে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ থেকে রক্ষা পায়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা অসীম বরণ সেন জানান, ‘প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে যে পেনশনে নামে যেসব বিল ভাউচার বানানো হয়েছে সবগুলো ভুয়া। এই নামে আমদের জেলা কোন কর্মকর্তা পেনশনে যায়নি। ভুয়া বিল বানিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছিল।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক লি: টেকনাফ শাখার ব্যবস্থাপক আবুল মন্জুর জানান, টেকনাফ হিসাব রক্ষন অফিসার কর্তৃক প্রেরিত পেনশনের এডভাইজ ও বিলের ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৮২ টাকা চট্রগ্রামের একটি শাখায় পাঠানো হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তা যাচাই-বাছাই এ ভূয়া বলে প্রমানিত হলে ভূয়া বিলের টাকা ফেরত আনা হয়েছে। এক পর্যায়ে হিসাব রক্ষন অফিসার তার ভুল হয়েছে বলে দাবি করে। এ ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তবে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে টেকনাফ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার শাহ নেওয়াজ জানান, ‘সাহাব উদ্দিন নামে পেনশনের বিল আমার এখান থেকে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে কিনা এই মূর্হতে আমার মনে পরছে না। এ বিষয়ে দেখা করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ চৌধুরী জানান, ‘ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে পেনশনের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমিও শুনেছি। ব্যাংক কতৃপক্ষে চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

এ ব্যাপারে চট্রগ্রাম বিভাগীয় হিসবাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আহমেদ মনসুর জানান, ‘পেনশনের নামে টেকনাফ সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি অবহিত হয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
এদিকে লাখ লাখ টাকা ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে টেকনাফ উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসার কর্তৃক সরকারী টাকা আত্মসাৎ এ জড়িয়ে পড়েছে। এভাবে প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ করতে হিসাব রক্ষন অফিসারের একটি চক্র সারা দেশে সক্রিয় রয়েছে। এসব অর্থ লোভীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারের আরো বড় ধরনের অর্থ আত্মসাৎ এর আশংকা রয়েছে।