মন ভালো নেই রিকশাচালকদের

গাইবান্ধার মিঠু। ঢাকায় রিকশা চালান। তার আয়ে চলে চার সদস্যের পরিবার। প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাজধানীর প্রতিটি রাস্তায় যাত্রী নিয়ে তার রিকশার চাকা ঘুরেছে। সাম্প্রতিক বিধিনিষেধেও চলেছে তার রিকশার চাকা। গত দুইদিনে ভালো আয় হয়েছে। দুই দিনে প্রায় চার হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি। পরিবারের জন্য নিত্যপণ্য কিনে রেখেছেন তা দিয়ে। তার আশা কঠোর বিধিনিষেধে রিকশায় বেশি বেশি যাত্রী উঠবে। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল থেকেই শুরু হয়েছে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ। চলছে না কোনো গণপরিবহন। সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ অফিসই বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাসা-বাড়ি থেকেও অনেকে বের হচ্ছেন না। এর মধ্যে আবার বৃষ্টির বাগড়া সকাল থেকে। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আর এতেই কষ্ট নেমে এসেছে নিম্ন আয়ের মানুষের। বিশেষ করে রাজধানীর রিকশাচালকদের অবস্থা করুণ।

এ অবস্থায় মিঠুসহ আরও অনেকেই রিকশা নিয়ে যাত্রীল অপেক্ষা রয়েছেন। কিন্তু বিধিনিষেধে মানুষের চলাচল নেই রাস্তায়, তাই রিকশায় নেই কোনো যাত্রী। সকাল ৭টা থেকে দুপুর প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত মিঠুর আয় মাত্র ৮০ টাকা। অথচ বিকেল ৫টার সময় তার রিকশাটি গ্যারেজে জমা দিতে হবে। সঙ্গে গ্যারেজে ১০০ টাকা জমা দিতে হবে, কিন্তু তার জমার টাকা তখনও ওঠেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মিঠুর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনের বিধিনিষেধে অনেক টাকা আয় করেছি। গত দুইদিনে চার জহাজার টাকা আয় ছিল। গতরাতে (গতকাল বুধবার) গ্রামে টাকা পাঠিয়েছি, বাকি টাকা দিয়ে সদাই (নিত্যপণ্য) কিনেছি। আজ গ্যারেজের ভাড়াটাও ওঠেনি। জানি না বাকি সময়টা কীভাবে যাবে। রাস্তায় সকাল থেকে রিকশা নিয়ে ঘুরছি কিন্তু মেইন রোডে যাত্রী পাচ্ছি না।’

শামসুল নামে অপর এক রিকশাচালক বলেন, ‘আজ রাস্তায় যাত্রী নেই। এভাবে কতদিন চলবে জানি না। তবে আজকের মতো আগামী দিনগুলো চললে, না খেয়ে মরতে হবে। আমাদের দিনের আয় দিয়ে দিন চলে, বাড়তি জমা থাকে না। এভাবে চললে আগামী দিনগুলোতে না খেয়ে মরতে হবে। সবারই একই অবস্থা, বিশেষ করে আমাদের মতো গরিবের।

হাবিবুল ইসলাম নামে একজন যাত্রী বলেন, ‘অনেকে প্রয়োজনীয় কাজ আগেই সেরে রেখেছেন। তাই তারা বাইরে বের হচ্ছেন না। অনেকের মধ্যেই আবার ভয় কাজ করছে। সবমিলে এখন বাসায় থাকাই নিরপাদ। আমার বাসায় সবজি নেই এজন্য বের হয়েছি, রিকশায় উঠেছি। আজ বেশি করে সবজি নিয়েছি, আমিও আগামী দুইদিন ঘর থেকে বের হবো না।’