কঠোরভাবে লকডাউন পালন না করলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রুবেদ আমিন বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু ক্রমেই বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন বিভাগে করোনার সংক্রমণ সর্বোচ্চ ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত ১৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের। তার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি রোধে কঠোরভাবে লকডাউন (বিধিনিষেধ) প্রতিপালন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় লকডাউন প্রতিপালনে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

বুধবার (২৩ জুন) করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. রুবেদ আমিন বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হাসপাতালের সেবাদান সুশৃঙ্খল রাখার উদ্দেশ্যে ঢাকার চারপাশে লকডাউন দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনার জন্য চলমান লকডাউন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা আছেন, প্রয়োজনে তাদেরকে কঠোর হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিশেষ অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য, হাসপাতালে সেবা দানের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহায়ক জনবলের প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। নিত্যদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে করোনা পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তীতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সংক্রমণের হার অনেক বেশি। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন বিভাগে সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রংপুর বিভাগে ৮৬ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে প্রায় ৫০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪২ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ১৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে প্রায় ৫০ শতাংশ ও ময়মনসিংহে প্রায় ৬২ ভাগ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু রাজশাহী বিভাগে সংক্রমণ বর্তমানে কিছুটা কম, প্রায় ১৩ শতাংশ। গত ১৪ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত করোনার ৪৩০ জনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ ১২০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯০ জন এবং ঢাকা বিভাগে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।