উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, নগদ এজেন্ট মালিককে অর্থদণ্ড

মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামসা ইউনিয়নের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি প্রাপ্ত কিছু শিক্ষার্থী স্থানীয় বাজারে নগদ এজেন্ট রিপন এন্টারপ্রাইজ থেকে টাকা উত্তোলন করেন।

শিক্ষার্থীদের মোবাইলে নগদ একাউন্ট থেকে ১৮০০ থেকে ২৭০০ টাকা এজেন্ট মালিক  রিপন ও তার কর্মচারী তাদের একাউন্টে স্থানান্তর করেন। এর থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে ৯০০ টাকা, কাউকে ১৮০০ টাকা, আবার কাউকে ২৭০০ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া প্রত্যেকের কাছ থেকে চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ২০ থেকে ৪০ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। এভাবে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন নগদ এজেন্ট রিপন এন্টারপ্রাইজের মালিক রিপন হোসেন।

এমন অভিযোগ পেয়ে গত রবিবার (২০) জুন নগদ এজেন্ট রিপন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রিপন হোসেন ও তার শ্যালক (কর্মচারী) বিশালকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা। পরে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য শর্ত সাপেক্ষে রিপন হোসেন ও তার কর্মচারীকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌসের নির্দেশ ও সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসর রুনা লায়লার তত্ত্বাবধানে সোমবার (২১ জুন) দুপুরে নগদ এজেন্ট রিপন এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান রুমেল।

তিনি বলেন, ঘটনার সত্যতা পেয়ে নগদ এজেন্ট রিপন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রিপনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত মো. রিপন হোসেন বলেন, অসুস্থাতার কারণে আমি কয়েক দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারিনি। এই সুযোগে কর্মচারী কিছু শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির আংশিক টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানার পর প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেউ যদি বাকি থাকে দুই এক দিনের মধ্যে তাদের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।