তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন তিনটিই ক্ষতিকর

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ক্ষতি করে। বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় সাত হাজারের বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০টি ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

মুজিব বর্ষ ও ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২১’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া নারী, শিশুসহ অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে বছরে পৃথিবীতে ৮০ লাখেরও বেশি আক্রান্ত এবং বাংলাদেশে ১ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান।
এছাড়া, সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চাইতে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় করতে হয়।

তিনি আরও বলেন,বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তামাক যেহেতু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে, তাই তামাকজনিত অকাল মৃত্যু কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণেও সরকার সক্রিয়।

এই অনলাইন কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল মালিক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার।

অনলাইন এ আলোচনা সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগও সক্রিয় থাকবে। এজন্য মেডিকেল শিক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়া পরিবার কল্যাণে বিদ্যমান কর্মসূচির সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়কে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হবে।