র‍্যাব ছাড়া বদলে যাচ্ছে পুলিশের সব ইউনিটের পোশাক

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম (পোশাক)। এক সময় ছিল খাকি, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে যার রঙ বদলে গেছে অনেক আগেই। পরে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে পুলিশের জন্য দুটি আলাদা রঙের পোশাক দেয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ফের পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইউনিফর্মের মান যাচাইয়ে ইতোমধ্যে ট্রায়ালও শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাহিনীর মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছ থেকে এ সংক্রান্ত পরামর্শ পেয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজও শুরু করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি রঙ ও মানের ইউনিফর্মের ট্রায়াল চলছে। এ প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত পোশাকটি বেছে নেয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের সব ইউনিটের ইউনিফর্মের রঙ একই হবে। তবে আগের মতো এবার আর একরঙা থাকছে না পুলিশের ইউনিফর্ম। পরিবর্তে পুলিশ সদস্যদের গায়ে দেখা যেতে পারে মিশ্র রঙের পোশাক।

পুলিশ সদর দফতরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, র‌্যাব ছাড়া অন্য সব ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটের পোশাক একই রকম করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত আসেনি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পোশাকের কাপড় হবে খুবই উন্নতমানের। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি)। এছাড়া জুতাসহ অন্যান্য সরঞ্জামও একই উৎস থেকে কিনেতে বা সংগ্রহ করতে পারবেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তন একটি নিয়মমাফিক কাজ। বেশ কয়েক বছর পরপরই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশের ইউনিফর্মে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়। যেমনটি হয়েছিল ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতেও অনেক সময় পরিবর্তন আনা হয়। এছাড়া আবহাওয়াগত বিষয় মাথায় রেখেও বাহিনীর পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের পরিবর্তন।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে পুলিশের পোশাক ছিল খাকি রঙের। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক আগেই তা বদলে গেছে। ২০০৪ ও ২০১৬ সালে দু’বার পুলিশের কয়েকটি ইউনিটের পোশাকের রঙে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দুই রঙের পোশাক দেয়া হয়। তবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও ব্যাটালিয়নভেদে পোশাকের ভিন্নতাও রয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটলিয়নের (এসপিবিএন) পোশাক সম্পূর্ণ ভিন্ন রংয়ের। ২০০৪ সালে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে মহানগরগুলোয় হালকা জলপাই রংয়ের করা হয়। জেলা পুলিশকে দেওয়া হয় গাঢ় নীল রঙের পোশাক। র‌্যাবের কালো ও এপিবিএনের পোশাক তৈরি করা হয় খাকি, বেগুনি আর নীল রঙের মিশ্রণে। এসপিবিএনের পোশাকের জামার রঙ করা হয় ধূসর।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, আইজিপি স্যার পুলিশের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার তাই করছেন। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিব নানাভাবে সহায়তা করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইজিপি স্যার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কথা বলেন। সারা দেশের পুলিশ সদস্যরা একই রকমের পোশাক যাতে ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য তিনি বেশকিছু প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। রেঞ্জ ও জেলাসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের পোশাক একই রঙের আওতায় আনার চিন্তা-ভাবনা করা হয়। তবে আলাদা হওয়ার কথা রয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশের পোশাক। এছাড়া র‌্যাবের পোশাক পরিবর্তন হবে না।

পুলিশের লজিস্টিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন ইউনিফর্মে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টিকে জোর দেয়া হচ্ছে তা হলো কাপড়ের মান। সেক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের ১০-১৫টি দেশের পুলিশের ইউনিফর্ম বিশ্লেষণ করেছে বাংলাদেশ। এসব দেশের পুলিশের কাপড়ের মান বিবেচনায় রেখেই নতুন ইউনিফর্মের মান নির্ধারণ করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের সরবরাহ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের পোশাক বদলানোর ব্যাপারে আইজিপি স্যার উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। ইতোমধ্যে ইউনিফর্মের মান যাচাইয়ে ট্রায়ালও শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুলিশ নতুন ইউনিফর্ম পেতে যাচ্ছে। ট্রায়াল শেষে চূড়ান্ত নমুনা পুলিশ সদরদফতরের লজিস্টিক বিভাগ থেকে পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত নমুনা পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে এপিবিএন এবং এসপিবিএন এর নতুন ইউনিফর্ম চূড়ান্তের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।