আনোয়ারায় গৃহহীনদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান মো. সোলায়মানের বিরুদ্ধে এবার গৃহহীনদের জন্য সরকারি প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকায় গিয়ে তা সত্যতা যাছাই করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
অভিযোগ রয়েছে, বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামের ৮০ জনকে ঘর দেওয়ার জন্য একটা তালিকা উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়ে। বৈরাগ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তালিকা ভুক্তদের একটি কমিটি করে ইউএনও কে দিতে হবে বলে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, আনোয়ারায় গৃহহীনদের জন্য ৬০০ ঘর নির্মাণের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বরুমচড়া ইউনিয়নে ৬৫ ঘর প্রস্তত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুয়াপঞ্চক গ্রামে দুই একর সরকারি খাস জমি নিধারণ করা হয়েছে। গৃহহীন পরিবারদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে এক একর জমিতে ৮০টি ঘর নির্মাণ করা হবে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ইউএনও কে টাকা দিতে হবে বলে চেয়ারম্যান আমাদেরকে দুই লাখ টাকা দিতে বলেছে। টাকা তোলার জন্য একটা কমিটিও করে দিয়েছেন তিনি। আমিও সে কমিটির কাছে সতের হাজার টাকা দিয়েছি। চেয়ারম্যান এসব কাউকে না বলতে বলেছেন। বললে আমাকে গ্রামে থাকতে দিবে না।
উপকার ভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে ইউএনও কে অবগত করলে ইউএনও টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্পস্থানে যায়।
বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে নুরুল হক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিচকে ডেকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা টাকা নেওয়ার কথা ও চেয়ারম্যানের পছন্দ লোকদের ঘর দেওয়ার কথা জানান।
ঘটনাস্থলে একুশে পত্রিকা প্রতিবেদক জিন্নাত আইয়ুব সরেজমিনে গেলে চেয়ারম্যান তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তখন ইউএনওকে বলেন আপনি সাংবাদিক কেন নিয়ে আসছেন। তখন ইউএনও বলেন, আমি সাংবাদিক নিয়ে আসি নি এমনটা জানান একুশে পত্রিকার আনোয়ারা প্রতিনিধি জিন্নাত আইয়ুব।
এসময় বৈরাগ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান প্রতিবেদককে বলেন, এখানে আপনার কি। যা বুঝার আমি বুঝব! আপনি এখান থেকে চলে যান। চেয়ারম্যানের ক্ষিপ্ততা দেখে ইউএনও প্রতিবেদককে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
এই বিষয়ে ইউএনও শেখ জুবায়ের আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এছাড়াও এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ক্লিনিকের সীমানা প্রাচীর দিতে টাকা নিয়ে নয় ছয় করা, জন্মসনদ থেকে ২০০ টাকা আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।