যুদ্ধবিরতির মাঝে সুযোগে ইসরায়েলে দূতাবাস খুলল আমিরাত

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র ১০ দিনের মাথায় তেল আবিবে দূতাবাস খুলল সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত রবিবার (৩০ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলে দূতাবাস চালু করেছে দেশটি।

জানা যায়, গত ২৫ বছরের মধ্যে আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করল আমিরাত। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে ইসরায়েলিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক গড়েছিল জর্ডান। এরপর গত দুই যুগ ধরে আর কোনো আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক করেনি, যদিও তাদের অনেকে গোপনে বা পরোক্ষভাবে সম্পর্ক বজায় রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি সই করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর চলতি বছরের শুরুতেই ইসরায়েলি রাজধানী তেল আবিবে দূতাবাস স্থাপনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় আমিরাতের মন্ত্রিসভা।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন মোহাম্মদ মাহমুদ আল-খাজা। আবুধাবির কাসর আল ওয়াতান প্রাসাদে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান আমিরাতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম।

শপথ অনুষ্ঠানে রশিদ আল-মাকতুম রাষ্ট্রদূত খাজার উদ্দেশে বলেন, আপনাকে আমিরাত-ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীরতর করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। এমনভাবে কাজ হতে হবে যেন আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি, সহাবস্থান ও ধৈর্যের সংস্কৃতি আরও বিকশিত হয়।

আরব দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক খারাপ ছিল ইসরায়েলের। এর মূল কারণ ফিলিস্তিন ইস্যু। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতায় সেই অবস্থান থেকে সরে গত বছর ইসরায়েলিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আমিরাত, বাহরাইন, মিশর, মরক্কোর মতো মুসলিম দেশগুলো।

ইতোমধ্যে আবুধাবিতে দূতাবাস চালু করেছে ইসরায়েল। সেখানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করেছেন এইতান নায়েহ নামে এক কূটনীতিক।

সম্প্রতি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের ১১ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে। এসময় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে।

টানা ১১ দিনের ওই আগ্রাসনে ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনে অন্তত ২৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, এদের মধ্যে ৬৬ শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার বেসামরিক মানুষ। আর ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে মারা গেছেন ১২ জন।