বেরোবিতে অনিয়ম-দুর্নীতি : ইউজিসির তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত স্থগিত চেয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবির) উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন।

রিটে বেরোবি ভিসি অধ্যাপক ড. নামজুল আহসান কলিমুল্লাহ’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চলমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক ড. নামজুল আহসান কলিমুল্লাহ নিজেই গত ২৩ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। হাইকোর্টে তার পক্ষে আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম রিটটি শুনানির জন্য আবেদন ও অনুমতি নেন।

রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, রিট আবেদনে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গত ১৫ মে ইউজিসির পক্ষ থেকে দেয়া নোটিশ চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই নোটিশের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাজির হতে সময় চেয়ে ভিসি কলিমউল্লাহর আবেদন নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

আইনজীবী বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা বা তদন্ত শেষ করা ন্যাচারাল জাস্টিসের মধ্যে পড়ে না। এটি সংবিধানের ৩১ ধারার পরিপন্থী। এ অবস্থায় আমরা আদালতের কাছে রিট করে এসব বিষয়ে নির্দেশনা চেয়েছি।

জানা যায়, অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হতে অধ্যাপক ড. নামজুল আহসান কলিমুল্লাহকে গত ১৩ এপ্রিল চিঠি দেয় ইউজিসি। এই চিঠি পাওয়ার পর জবাব দাখিল এবং হাজির হতে সময় চেয়ে গত ১২ মে ইউজিসির কাছে আবেদন জমা দেন অধ্যাপক ড. নামজুল আহসান কলিমুল্লাহ। কিন্তু এরপরে ইউজিসি তাকে ১৫ মে আরও একটি চিঠি দেয়।

ওই চিঠিতে তাকে ২০ মে ইউজিসিতে হাজির হতে বলা হয়। এ অবস্থায় ইউজিসির ১৫ মে’র চিঠি চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন অধ্যাপক ড. নামজুল আহসান কলিমুল্লাহ। আগামী সপ্তাহে এ রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ৪৫টি অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ১০তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজে উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির আরেকটি সরেজমিন তদন্ত কমিটি। এজন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে জনবল নিয়োগ, রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেয়া, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে গত ১৪ মার্চ ক্যাম্পাসে যায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি।

এসব অনিয়মের তথ্য পেয়ে তার বিরুদ্ধে ৪৫টি অভিযোগ তুলে ধরে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান। তার পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্ত কমিটি করা হয়।