সর্বশেষ :

করোনা ভাইরাস, ঝুকিপূর্ণ ৭ জেলার মধ্যে নওগাঁ অন্যতম, কঠোর লকডাইনের সম্ভাবনা

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ নওগাঁয় হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। জেলায় এপর্যন্ত ২ হাজার ২ শ’ ১৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি বৃদ্ধির কারনে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্ত্তৃক দেশের যে ৭টি জেলাকে ঝুকিপূর্ণ হিসাবে সর্বাত্মক লকডাউনো আওতায় নেয়ার সুপারিশ করেছে, এরমধ্যে নওগাঁ জেলা অন্যতম। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলা গুলোর সাথেই নওগাঁ জেলায় করোনা পরিস্থিতি হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

আক্রান্তের সাথে মৃত্যু সংখ্যা বেড়েছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ হারুন-অর-রশীদ এবং সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ জানিয়েছেন, সারা দেশের মধ্যে যে ৭টি জেলাকে সর্বাত্মক লকডাউনের আওতায় নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে নওগাঁ জেলাও রয়েছে। তবে জনপ্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত সে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষনার নির্দেশনা পাওয়া যায় নি। অপরদিকে নওগাঁবাসীকে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিগত সমযের ন্যায় ফের নওগাঁর সুযোগ্য জেলা পুলিশ সুপার জনাব প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাঠে রয়েছেন পুলিশ। এমনকি নওগাঁর পার্শ্ববর্তী জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ ইতি পূর্বেই কঠোর লকডাইনের আওতায় নেওযার কারনে রাতদিন পুলিশের একাধীক টিম ঐ জেলা থেকে নওগাঁ জেলায় সংযুক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথ সহ আরো ছোট বেশ কয়েকটি পথে অবস্থান নিয়েছেন। নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোলরুম সুত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা পরিস্থিতি’র শুরু থেকে ২০২১ সালের ৩০ মে বিকাল পর্যন্ত পিসিআর ল্যাবে নওগাঁ জেলা থেকে ১৫ হাজার ৭শ’ ১৭ জন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরন করা হয়েছে।

এদের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে ৫ হাজার ২শ’ ৫৬ জন ব্যক্তির। প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলায় সর্বমোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ২শ’ ১৫ জন। পরীক্ষা অনুপাতে আক্রান্তের পরিমান ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ পর্যন্ত নওগাঁ জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছেন ৪০ জন । শনাক্তের তুলনায় মৃতের হার ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। নওগাঁ জেলার হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে ৯০২ জন সহ সর্বমোট হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয় ২২ হাজার ৫৭ জন ব্যাক্তিকে। এদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ৮ শ’ ৯২ জন সহ সর্বমোট কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ২১ হাজার ১শ’ ২৪ জন ব্যক্তিকে। বর্তমানে কোয়রেন্টাইনে রয়েছেন ৯ শ’ ৩৩ জন। এছাড়া সর্বমোট আইসোলেশনে নেয়া হয় ১ শ’ ১ জন ব্যক্তিকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৯৩ জন ব্যক্তিকে। বর্তমানে আইসোলেশনে অবস্থানকৃত ব্যক্তির সংখ্যা ৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন বলে জানানো হয়েছে। আসুন স্বাস্থবিধি মেনে চলি- প্রশাসনকে সহযোগীতা করি, নিজে ও পরিবারের সদস্য সহ প্রতিবেশীকে করোনা ভাইরাস মুক্ত রাখি।