লালমনিরহাটে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর বেড়েছে

মোঃ মাসুদ  রানা রাশেদ: প্রতি অর্থ বছর জুন মাস এলেই বাজেট পাশ হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবার নয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে অর্থনীতিকে কিছুটা নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আর খেটে খাওয়া শ্রমজীবি অধিকাংশ সাধারণ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সামগ্রীর দাম আকাশ ছোঁয়া হারে বেড়েই চলেছে।

বাজেটকে সামনে রেখে বেড়েই চলেছে নিত্য পণ্যের দাম। এদিকে সরকার বলছে খাদ্য সংকট নেই। অপরদিকে ব্যবসায়ীগণ নানা অযুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছেন। এই অবস্থার পরিত্রাণ চায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজন। ইতিমধ্যেই ধান উৎপাদনের ভরা মৌসুমে যেখানে চালের বাজার নিম্নমুখী হওয়ার কথা ছিল, সেখানে উল্টো চালের বাজার প্রতি কেজি ৯টাকা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯টাকা হারে বেড়েছে। এমন কি নিত্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি খাদ্য পণ্যের দাম বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে পাইকারী ও খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একেবারেই নিম্নমানের চাল মোটা স্বর্ণাসহ সব ধরনের চালের বাজার ঊর্দ্ধমূখী। করোনাকালে কয়েক দফায় চালের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। লোকাল চাল ৫০কেজির বস্তার বাজার দর চলছে ২হাজার ১শত টাকা থেকে ২হাজার ৪শত টাকা। আটাশ চাল ৫০কেজির বস্তা ২হাজার ৬শত থেকে ২হাজার ৮শত টাকা। দিনাজপুরের আটাশ ও ঊনত্রিশ চাল ৫০কেজি বস্তা ২হাজার ৭শত থেকে প্রকারভেদে ৩হাজার ৩শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি কেজি চাল ৫২টাকা থেকে ৬৪টাকা। মিনিকেট কেজি ৭০টাকা থেকে ৭৫টাকা, কাটারী পোলার চাল ৫০কেজির বস্তা আগে ছিল ২হাজার ৫শত ৫০টাকা, দাম বেড়ে এখন ৩হাজার ২শত ২০টাকা। খুচরা ১কেজি কাটারী চাল বিক্রি হচ্ছে ১শত টাকা কেজি। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষ মহা বিপাকে পড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের দারিদ্রপ্রীড়িত জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম লালমনিরহাট জেলা।

বিগত বছরে সরকারের গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়ায় মঙ্গা নামক কলঙ্ক মুছন হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আবারও উত্তরাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে মঙ্গার প্রতিধ্বনি শুনা যাচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রর পদক্ষেপ খুব জরুরী হয়ে পড়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তাই সরকারের উপর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক।
পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগে চিনির বস্তা ছিল পাইকারী ৩হাজার ২শত ২০টাকা, এখন ৩হাজার ৫শত টাকা। সয়াবিন তেল  বোতল জাত ছিল ১শত ৩৯টাকা। সেই তেল এক লাফে বেড়ে ১শত ৪৪টাকা হয়ে যায়।

এখন আরও ৯টাকা করে বেড়েছে। বেড়েছে ময়দা, পামওয়েল, মাছ, মাংস, সবজিসহ সব ধরণের ভোগ্য পণ্যেরও দাম। মুসুর ডাল পাইকারী ভাবে প্রতিবস্তা ছিল ৩হাজার ৪শত টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩হাজার ৬শত টাকা। পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগে ১শত ডিমের দাম ছিল ৬শত ১৫টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৭শত ২০টাকা। বাজারের মনিটনিং ব্যবস্থা আছে কিনা বুঝার কোন ব্যবস্থা নেই। ভোক্তা অধিকার পদে পদে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের উর্দ্ধতন মহলে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ। কেন দাম বেড়েছে ব্যবসায়ীরা সঠিক উত্তর দিতে না পেরে চুপ থাকছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশী দামে কিনে দুই টাকা লাভে বিক্রি করছি। দাম বাড়ানোর সম্পর্কে মহাজন ও আঁড়ত ব্যবসায়ীরা বলতে পারবেন।

কবি ও সাংবাদিক হেলাল হোসেন কবির বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর হু হু করে বেড়েই চলছে। এ থেকে পরিত্রাণ চায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।