ইয়াসের আঘাতে বিধ্বস্ত উড়িষ্যা-দিঘায় নিহত ৪

ভারতের উড়িষ্যার বালেশ্বরে ১৫৫ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। বুধবার (২৬ মে) সকাল ১০টার দিকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫৫ কিলোমিটার বেগে উড়িষ্যার বালেশ্বরের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। অঞ্চলটিতে টানা ৩ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় ইয়াস। যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূলীয় এলাকাতেও।

ইয়াসের প্রভাবে উড়িষ্যায় দুইজন ও পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। উপড়ে পড়ে গাছ। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উপকূলীয় এলাকা। ঝড় চলাকালীন সময় মানুষের মধ্যে তীব্র আতংক দেখা দেয়। খবর এনডিটিভির।

দিঘায় জলের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে কার্যত পানির নিচে চলে গিয়েছে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা। ভেসে গিয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ধামড়াতেও প্রবল জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। সঙ্গে ছিল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণ। বিধ্বস্ত দিঘায় উদ্ধার অভিযানে নামে সেনা সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৫ মে) রাত থেকেই দিঘায় শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতাও বাড়ছিল। সময় যত এগিয়েছে তত বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে। সেই সঙ্গে দিঘা ও নিউ দিঘায় গার্ডরেল ছাপিয়ে জল ঢুকতে শুরু করে। তার ফলে বুধবার সকালেই জলমগ্ন হয়ে যায় মূল শহর। ঘূর্ণিঝড় আসার আগেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে নামানো হয় সেনা।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় মমতার সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি বলেন, আমফানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক কেউ আমরা চাই না। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে যেভাবে কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সব কাজেই এভাবে সমন্বয় রাখা প্রয়োজন।

উড়িষ্যায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও দেড় লাখ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নেয়া হয়েছে। উড়িষ্যা সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রাখা রীতিমতো কঠিন কাজ।