ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করল হোয়াটসঅ্যাপ

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কিছু সময় পরই সেখানকার বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক দেখেন তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার চিফ করেসপন্ডেন্ট ওয়াইল আল-দাহদৌ ও সংবাদদাতা হিশাম জাকুতও রয়েছেন।

গত শুক্রবার ভোর থেকে তাদের সূত্র, সম্পাদকসহ গাজা উপত্যকার বাইরের লোকদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে আলাপ বন্ধ হয়ে যায়।

মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য মতে, গাজার অন্তত ১৭ জন সাংবাদিক তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে সোমবার (২৪ মে) দুপুর পর্যন্ত মাত্র চারজন নিজেদের অ্যাকাউন্ট ফিরে পেয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো হোয়াটসঅ্যাপের মালিক ফেসবুকের ফিলিস্তিন-বিরোধী নতুন পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সম্প্রতি ফিলিস্তিনপন্থি স্ট্যাটাস, মেসেজ ও হ্যাশট্যাগ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

গাজার ওই ১৭ সাংবাদিকের ১২ জন এপিকে জানিয়েছেন, তারা খবর সংগ্রহের জন্য হামাসের সামরিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন।

‘বিরক্তিকর এবং অনৈতিক’

আল-জাজিরার চিফ করেসপন্ডেন্ট ওয়াইল আল-দাহদৌ জানান, গত শুক্রবার ভোর থেকে তিনি তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছিলেন না, পরে সোমবার তা আবারো চালু হয়েছে। তিনি জানান, সাংবাদিকরা হামাস সংশ্লিষ্ট গ্রুপে যুক্ত হন কেবল সংবাদ সংগ্রহের জন্যই।

দাহদৌর সহকর্মী জাকুত হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের এমন আচরণকে ‘বিরক্তিকর ও অনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। আল-জাজিরার এ সংবাদদাতা জানান, তিনি ফেসবুকে তার ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেয়া হবে বলেও একাধিকবার সতর্কবার্তা পেয়েছেন। ফিলিস্তিনি এ সাংবাদিক ব্যবহারবিধি ভঙ্গ করছেন বলে দাবি করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

আল-জাজিরার কাতার অফিস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরেই কয়েকজন সাংবাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফের খুলে দেয়া হয়।

তবে গ্রুপ ও কনভার্সেশন ফিরে এলেও কন্টেন্টগুলো মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-দাহদৌ। হোয়াটসঅ্যাপে থাকা পুরনো সব ছবি, তথ্য, নাম্বার হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এ সাংবাদিক।

এর আগে সাম্প্রতিক আগ্রাসনের সময় গাজায় আল-জাজিরা ও এপির কার্যালয় থাকা ভবনটি বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেয় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এ ঘটনায় হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি জানিয়েছে রিপোর্টস উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।