নওগাঁয় গৃহবধূকে ধর্ষন চেষ্টা, অবশেষে অর্থের মাধ্যমে রফাদফা, গৃহবধূকে পাঠানো হলো বাবার বাড়ি…? 

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নওগাঁর রাণীনগরের ঝালঘড়িয়া গ্রামের এক গৃহবধূ ২ সন্তানের জননীকে ধর্ষন চেষ্টার ঘটনা অবশেষে অর্থের মাধ্যমে রফাদফা করার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার দিন গত ২০মে (বৃহস্পতিবার) রাতে গৃহবধূর দু ছেলে সহ কয়েকজন বন্ধু মিলে বনভোজনের আয়োজন করেন। এরি এক পর্যায়ে বড় ভাই তার ছোট ভাইকে ডুবাগাড়ি বাজারে তাদের চায়ের দোকানে রেখে প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে দেখে একই গ্রামের মৃত-আমিনুল হক চুনির ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজা তাদের বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে আছেন। এরপর বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে দেখেতে পান একই গ্রামের মৃত-বশির আলী আকন্দের ছেলে নজরুল ইসলাম নজু তার মাকে জড়িয়ে ধ্বস্তাধস্তি করছিলো কিন্তু ছেলেকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর ছেলের সামনেই তার মা কান্নারত অবস্থায় পাশের বাড়িতে চলে যায় এবং ঘটনাটি জানান। ঘটনার বেশ কয়েকদিন আগে তার স্বামী দিনমজুরের কাজের জন্য বাহিরে থাকায় চায়ের দোকান তার ছেলেকে দেখাশোনা করতে হয়।
গ্রামের জাহিদুল হক সিন্টু বলেন, প্রায় এক মাস আগে এই দুই ব্যক্তিই গ্রামের অপর আরেক গৃহবধূকে রাতের আঁধারে ধর্ষনের চেষ্টা করেছিলো। সেই বিষয়টিও কতিপয় ব্যক্তিরা প্রায় ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মিটমাট করেছে। তারপর ভুক্তভোগী গৃহবধূকে নিয়ে একই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক একটি বিষয়। আমরা এই বিষয়গুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মহোদয়কে জানিয়েছি। তার নির্দেশনা মোতাবেক গ্রামে কোন কিছু হলে আমরা গ্রামবাসীরা বসে তা সমাধান করবো কিংবা আইনানুগভাবে হবে। কিন্তু বাহিরের মানুষরা এসে সমাধানের নামে মোটা অংকের অর্থ হরিলুট করে নিয়ে যাবে তা আর আমরা মানবো না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের অনেকেই সাংবাদিকদের বলেন, নজরুল ও রেজার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বহিরাগত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গোপনে শুক্রবার রাতে এই বিষয়টি মিটমাট করেছেন। কিন্তু যে পরিমাণ টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা ছিলো তার কিছু অংশ দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে শনিবার তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এদিকে এই বিষয়টি গ্রামের গন্যমান্য ও সুধীজনদের না জানিয়ে বাহিরের মানুষরা এসে অর্থের বিনিময়ে মিটমাট করার বিষয় নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গ্রামের সচেতন মহলে।
ভুক্তভোগীর স্বামী মুঠোফোনে বলেন আমার স্ত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছিলো। এরপর বিষয়টি শুক্রবার রাতে (২১মে) আমরা স্থানীয় ভাবে মিটমাট করে নিয়েছি। থানায় যে অভিযোগ করেছিলাম তা তুলে নিয়েছি। আজ বুধবার সকালে আমার স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে আমার বাড়িতে এসেছে।
অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম রেজার সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে কোন মন্তব্য না করে লাইন কেটে দেন। অপরদিকে আরেক অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম নজু পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে ওই গৃহবধূর বাবা মোঃ মকুল হোসেন বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার পর মেয়ের বাড়িতে গেলে তারা বলেন আমরা এই বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটিয়ে নিয়েছি। আমার মেয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাইলে আমি মেয়েসহ সে টাকা দিতে এসেছি।
রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ বলেন, এই বিষয়ে শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী এসে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিম। এরপর আর কেউ থানায় কোন অভিযোগ না করায় বিষয়টি তদন্ত করা হয়নি। কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।