সর্বশেষ :

হিন্দু-মুসলিমকে সম্প্রীতির বাহুডোরে বাঁধতে চেয়েছিলেন নজরুল : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হিন্দু-মুসলিমকে সম্প্রীতির বাহুডোরে বাঁধতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে। তিনি হিন্দু-মুসলিমকে এক সুতোয় সম্প্রীতির বাহুডোরে বাঁধতে চেয়েছিলেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ মে) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। একই সাথে জাতীয় কবির ১২২তম জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য-সঙ্গীতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তার লেখায় অন্যায়, অসত্য, নির্যাতন, পরাধীনতার গ্লানি ও শৃঙ্খল মোচনের দীপ্ত উচ্চারণ যুগ যুগ ধরে মানুষকে সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। নজরুলের বলিষ্ঠ লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে পরাধীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি গেয়েছেন মানবতার জয়গান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তার রচিত গজল, রাগ-রাগিণী আজও মানব হৃদয়কে দোলা দেয়। নজরুল কেবল সংগ্রাম ও সাম্যের কবি নন, তারুণ্য ও যৌবনের কবি, জাতীয় জাগরণের কবি। তিনি হিন্দু-মুসলিমকে এক সুতোয় সম্প্রীতির বাহুডোরে বাঁধতে চেয়েছিলেন। তাইতো কবির কণ্ঠে সচকিত উচ্চারণ, ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান, মুসলিম তার নয়ন-মণি হিন্দু তাহার প্রাণ’।

তিনি বলেন, কবি নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। যেখানেই অন্যায়-অবিচার, সেখানেই কবির কলম হয়ে উঠেছে খাপছাড়া তলোয়ার। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে যখন নজরুলের শৈশব, কৈশোর অতিক্রান্ত হচ্ছিল উপমহাদেশে তখন স্বাধীনতা আন্দোলন ও ব্রিটিশ শাসনবিরোধী সংগ্রাম চলছিল। ১৯২২ সালে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাতেই নজরুল প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেন। নজরুলের লেখনী থেকেই আমরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। ১৯৭১ এর রণাঙ্গনে নজরুলের গান, কবিতা ও নাটক মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নজরুলের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’