চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা

জুলকার নাইন, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ গত এক সপ্তাহে জেলায় সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশীরা। তাই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের আশঙ্কা ও উর্দ্ধমুখী সংক্রমণের হার কমাতে মঙ্গলবার থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। কঠোর লকডাউনের আওতায় জেলায় প্রবেশ ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ মে) বেলা ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত জরুরি পরিসেবা বাদে পুরো জেলা সাত দিনের কঠোর লকডাউন থাকবে। কঠোর লকডাউনে সকল প্রকার যাববহন বন্ধ থাকবে, তবে জরুরি পরিসেবা- এ্যাম্বুলেন্স ও পন্যবাহী ট্রাক চালু থাকবে। আগামী ৭ দিন বাইরের জেলা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোন পরিবহন ঢুকতে পারবে না এবং জেলা হতে অন্য কোথাও যেতে পারবে না সাধারণ জনগণ। অর্থাৎ আন্তঃজেলা পরিবহন বন্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, লকডাউন চলাকালীন সময়ে সকল প্রকার দোকানপাট ও সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকবে। তবে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ফার্মেসী খোলা থাকবে। কেউ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলে অব্যশই মাস্ক পরিধান করে যেতে হবে। এমনকি জুম্মাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ২০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবে না।
আম বাজারজাতকরন ও পরিবহনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমের আড়তের পরিধি বাড়াতে হবে। তবে সরাসরি বাগান থেকে ট্রাকে আম পরিবহন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। এছাড়াও শিল্প কলকারখানার শ্রমিকরা নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াত করবে। এছাড়া জরুরি পরিসেবা যেমন- কৃষি উপকরণ, খাদ্যশস্য পরিবহন, কোভিড টিকা, ত্রাণ বিতরণ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী, ইন্টারনেট লাইন সংযোগ সংশ্লিষ্টরা লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবেন।