কঙ্গোতে আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণে শহর ছাড়ছে লোকজন

A villager run as Mount Sinabung erupt at Sigarang-Garang village in Karo district, Indonesia's North Sumatra province, February 1, 2014. Four people died and more than 28,000 villagers have been evacuated since authorities raised the alert status for the volcano to the highest level in November 2013, local media reported on Saturday. REUTERS/Stringer (INDONESIA - Tags: DISASTER ENVIRONMENT TPX IMAGES OF THE DAY)

আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রায় দুই দশকের ব্যবধানে আবারও পূর্ণ দমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নাইরাগঙ্গো আগ্নেয়গিরি। ভয়াবহ মাত্রায় উদগিরণ শুরু হওয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের তথ্যানুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমা থেকে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত নাইরাগঙ্গো পর্বতে আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, ২০ লাখ বাসিন্দার শহরটির রাতের আকাশ নাইরাগঙ্গোর আগুনে কমলা রং ধারণ করেছে। জ্বলন্ত লাভার বিস্ফোরণে দূর-দূরান্তে গিয়ে পড়ছে আগুনের ফুলকি। উত্তপ্ত লাভার ঢলের আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দলে দলে হেঁটেই ছাড়ছেন শহর। উদগিরণ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি ঘোষণা এলেও এর আগেই পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা সীমান্তের উদ্দেশে ছুটতে শুরু করেন হাজারো মানুষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপিকে জাখারি পালুকু নামে এক নাগরিক বলেন, আমাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সবাই ভয় পেয়ে আছে, পালাচ্ছে। কী করা উচিত আমাদের, বুঝতে পারছি না। আগ্নেয়গিরিতে একটি নতুন ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় গোমার দক্ষিণের দিকে বয়ে যেতে শুরু করেছে উত্তপ্ত লাভা। সেদিক থেকে শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বিমানবন্দরের দিকে এগোচ্ছে লাভার স্রোত।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শহরের বড় অংশজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। লাভার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে গোমার সঙ্গে বেনি শহরের সড়ক যোগাযোগ। বিষাক্ত সালফারের গন্ধ মিশে যাচ্ছে দূরের বাতাসেও।

ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটির এবারের অগ্ন্যুৎপাতও ২০০২ সালের মতোই ভয়াবহ রূপ নেয়ার পথে বলে সতর্ক করেছেন পার্কটির এক কর্মকর্তা। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে বিমানবন্দরের কাছে অবস্থানরত প্রত্যেককে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

চলমান পরিস্থিতিতে রাজধানী কিনশাসায় জরুরি বৈঠক করেছেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-মিখাইল সামা লুকোঁদ।

বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। যদিও অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ না করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে।

উল্লেখ্য, নাইরাগঙ্গো পর্বতে এর আগে সর্বশেষ ২০০২ সালে আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হয়েছিল। সে সময় অন্তত ২৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং এক লাখ ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। তারও আগে ১৯৭৭ সালে বিস্ফোরণ হয়েছিল। তখন প্রায় ৬০০ মানুষ নিহত হন।