বীর ফিলিস্তিনিদের ইরানের অভিনন্দন

ইসরাইলের বিরুদ্ধে টানা ১১ দিনের প্রতিরোধ যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ অভিনন্দন জানান।  খবর তাসনিম নিউজের।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে ফিলিস্তিন আরও বেশি শক্তিশালী এবং ফিলিস্তিনি তরুণ সমাজ ও প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর মোকাবিলায় ইহুদিবাদী ইসরাইল আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়বে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বিগত কয়েক দিনে এক বড় ধরনের পরীক্ষায় সম্মানজনকভাবে উতরে গেছে ফিলিস্তিনি জনগণ। বর্বর ইসরাইল শিগগিরই একথা উপলব্ধি করবে, ফিলিস্তিনি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন মোকাবিলা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, গত ১০ মে থেকে টানা ১১ দিন ধরে ইসরাইল সরকার গাজা উপত্যকার ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। তেল আবিব প্রমাণ করেছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মোকাবিলা করতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ।

উল্টো ইহুদিবাদী সরকার গাজার নিরীহ বেসামরিক জনগণের ওপর এমন লজ্জাজনক ও উন্মত্ত আচরণ করেছে যে, গোটা বিশ্ববাসী ইসরাইল ও তার পশ্চিমা সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে পেরে না উঠে গাজার নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ইসরাইল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়া’ এবং ‘যুদ্ধবিরতির আবেদন জানানো’- উভয় ক্ষেত্রেই ইসরাইলের পরাজয় স্পষ্ট হয়ে পড়েছে।  কাজেই প্রকৃত অর্থেই ইহুদিবাদী ইসরাইল পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

ফিলিস্তিনি জনগণকে উদ্দেশ করে লেখা বাণীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, কখন যুদ্ধ শুরু হবে এবং কখন শেষ করতে হবে তা এখন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিরোধ সংগঠনগুলোই নির্ধারণ করেন। তবে সংঘাত শেষ হলেও প্রতি মুহূর্তে প্রস্তুতি ও ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে।

বাণীতে মুসলিম দেশগুলোকে আন্তরিকতার সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান আয়াতুল্লাহ খামেনি।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদেরকে আর্থিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলার দায়িত্ব মুসলিম বিশ্বের। সেইসঙ্গে গাজা উপত্যকার ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেও মুসলিম দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

ফিলিস্তিনি নিরপরাধ নারী ও শিশুদের হত্যা করার দায়ে তিনি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক আদালতে ইহুদিবাদী সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিচার দাবি করেন।