নওগাঁয় ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে যেভাবে ছাত্রলীগ নেতাকে উদ্ধার করলো পুলিশ

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ নওগাঁয় বিরোধের জেরধরে এক ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরন পূর্বক হত্যার চেষ্টা। ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়ার সাথে সাথেই থানা পুলিশ মোবাইল ফোন ট্যাকিং করার মাধ্যমে ও দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্থানিয় গ্রামবাসীর সহযোগীতায় মাত্র ৩ ঘন্টার ব্যবধানে জঙ্গলের ভেতর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠালেন পুলিশ।

 

তবে জখম গুরুতর হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঐ ছাত্রলীগ নেতাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। স্থানিয়রা জানান, নওগাঁর মহাদেবপুর থানাধীন নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার ভীমপুর গ্রামের মাদ্রাসার পেছনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভীমপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম নূর গং ও যোবায়েদ গং দু’পক্ষের মাঝে বিরোধ চলছিলো।

 

তবে দীর্ঘ বছর ধরে জমিটি নজরুল ইসলাম নূর এর পিতা সহ পরিবারের সদস্যরা ভোগ-দখল করে আসাকালে গত বছর ঐ জমিতে থাকা কলা ও আমের বাগান হঠাৎ করেই রাতের আধারে যোবায়েদ গং তাদের ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী এনে কেটে সাবার ( নষ্ট) করে দেয় ও পরবর্তীতে আবারো গোরালী থেকে কলাগাছ গজিয়ে ওঠলে সে গাছের যত্ন করতে গেলে যোবায়েদ গং ও তার ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে লাঠি সহ দেশীয় অস্ত্রনিয়ে হামলা চালিয়ে ৩ জনকে জখম করে জমি দখলের বার্থ চেষ্টা করেন। সে ঘটনায় মামলাও চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানিয়রা। সর্বশেষ ২১ মে শুক্রবার নজরুল ইসলাম নূর এর পিতা সহ স্বজনরা সেই জমিতে আরো কিছু গাছের চারা রোপন করার সময় প্রতিপক্ষ যোবায়েদ ও তার ভাই সহ কয়েকজন ঘটনাস্থলের পার্শ্বেগিয়ে হুমকি-ধামকি দেন। এরপরই সন্ধার পূর্বে সারে ৬ টারদিকে যোবায়েদ সহ আরো কয়েকজন মোটর সাইকেল যোগে এসে নজরুল ইসলাম নূর এর ভাতিজা ও ভীমপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ জামিন ইসলাম (১৭) কে একলা পেয়ে জোর পূর্বক মোটর সাইকেলে তুলে অপহরন করেন।

 

অপহরনের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে স্বজন ও গ্রামবাসী জামিন ইসলামকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে খোঁজ-খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে পুলিশি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কলদিয়ে অপহরনের ঘটনাটি জানানোর পরই নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার জনাব প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ ও নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স সহ দ্রুত অভিযানে নামেন এবং মোবাইল ফোন ট্যাকিং এর মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাত সারে ৯ টারদিকে ভীমপুর মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের ভেতর থেকে স্থানিয় লোকজনের সহযোগীতায় গুরুতর জখম অবস্থায় জামিনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন পুলিশ।

 

এব্যাপারে নজরুল ইসলাম নূর জানান, জমিটি দীর্ঘ বছর ধরে আমার বাবা ভোগ-দখল (ফসল চাষ সহ কলা ও আম বাগান) করে আসাকালে যোবায়েদ গং হঠাৎ করেই রাতের আধারে লাঠি-সোটা দেশিয় অস্ত্র সহ ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী এনে বাগান কেটে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে বার্থ হওয়ার পরবর্তীতে দিন-দুপুরে হামলা চালিয়ে আমাদের ৩ জনকে গুরুতর আহত করেন, সে ঘটনায় মামলা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কিছু গাছ নষ্ট করায় (২১ মে) শুক্রবার আবারো নতুন করে কিছু গাছের চারা রোপন করার সময় যোবায়েদ ও তার ভাই দূর থেকে গালি-গালাজ করা সহ আমাদের জানে মেরে ফেলার প্রকাশ্যে হুমকি দেন এবং এর পরই সন্ধার পূর্ব মহূর্তে আমার ভাতিজা ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জামিনকে একা পেয়ে একই গ্রামের মৃত ওয়াহেদ এর ৩ ছেলে যোবায়েদ, খাইরুল ও আইয়ুব হোসেন দিপু, মৃত কাজিম এর দু ছেলে মাজেদ ও তোফাজ্জল হোসেন তফা সহ জৈনক মুস্তাফির রহমান শিমুল সহ আরো অপরিচিত কয়েকজন বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল নিয়ে এসে জোর পূর্বক ভাতিজা জামিনকে মোটর সাইকেলে তুলে অপহরন করলে আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে

গ্রামবাসী ও স্বজন সহ প্রায় ৪/৫ শত লোকজন বিভিন্নভাবে খোজাখুজি করে না পেয়ে অবশেষে ৯৯৯ নম্বরে ফোনদিলে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছেন এবং ফোন ট্যাকিং করেও একেক সময় একেক লোকেশান দেখালে সেখানে না পাওয়াই আমরা দিশেহারা হলেও পুলিশ সব সময় আমাদের সাথে নিয়ে অবশেষে রাত সারে ৯ টারদিকে ভীমপুর মাদ্রাসার পেছনের জঙ্গলের ভেতর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান, কিন্তু দায়িত্বরত চিকিৎসকরা গুরুতর জখম সহ বিষাক্ত দ্রব্য মুখের ভেতর দেওয়ার কারনে রাজশাহী রেফার্ড করেন।

শনিবার পূর্বরাত ২ টারদিকে নজরুল ইসলাম নূর জানান, বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে অবস্থা আশংখ্যাজনক জানিয়ে তিনি বলেন, অপহরনের পর বলিহার এলাকায় নিয়ে বেদম মারপিট করার পর মুখের ভেতর বিষাক্ত দ্রব্যদিয়ে মৃত্যু হয়েছে মনে করেই তারা আমার ভাতিজা জামিনকে ভীমপুরে এনে জঙ্গলের ভেতর ফেলে রেখে পালিয়ে যান, তবে ভাগ্য ভালো যে পুলিশ দ্রুত এসে ফোন ট্যাকিং করার কারনেই জীবন্ত অবস্থায় ভাতিজাকে ফিরে পেয়েছি, তবে এখনো অবস্থা তার খারাপ।

এব্যাপারে মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ প্রতিবেদককে জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত অভিযানে নামি এবং মোবাইল ফোন ট্যাকিং করার মাধ্যমে ও স্থানিয়দের সহযোগীতায় অপহরনের মাত্র ৩ ঘন্টার মধ্যেই ভিকটিমকে উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ওসি আরো বলেন, এঘটনায় ভিকটিমের পক্ষে স্বজনরা মামলার পস্তুতি নিচ্ছে, অপরাধী যেই হোক না কেন ছাড় দেওয়া হবে না।