নওগাঁয় ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে উদ্ধার করলো পুলিশ

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ
নওগাঁয় বিরোধের জেরধরে এক ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরন পূর্বক হত্যার চেষ্টা। ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়ার সাথে সাথেই থানা পুলিশ মোবাইল ফোন ট্যাকিং করার মাধ্যমে ও দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্থানিয় গ্রামবাসীর সহযোগীতায় মাত্র ৩ ঘন্টার ব্যবধানে জঙ্গলের ভেতর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠালেন পুলিশ।
তবে জখম গুরুতর হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঐ ছাত্রলীগ নেতাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন।
স্থানিয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধার পূর্ব মহূর্তে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ জামিন ইসলাম (১৭) কে পূর্ব বিরোধের জেরধরে যোবায়েদ সহ আরো কয়েকজন কয়েকটি মোটর সাইকেল নিয়ে এসে জোর পূর্বক অপহরন করে নিয়ে যান।
মহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মাঝে জানাজানি হওয়ার পর জামিন ইসলামের স্বজন সহ প্রায় ৪/৫ শত লোকজন বিভিন্নভাবে খোঁজ-খবর নিলেও সন্ধান না পেয়ে অবশেষে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মহাদেবপুর থানা পুলিশ অভিযানে নামেন এবং মোবাইল ফোন ট্যাকিং করার মাধ্যমে গতরাত সারে ৯ টারদিকে একটি মাদ্রাসার পেছনের জঙ্গলের ভেতর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
জামিন এর চাচা নজরুল ইসলাম নূর জানান, আমার ভাতিজা ও ভীমপুর ইউনিয়নের  ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি  মোঃ জামিন ইসলাম (১৭) কে পূর্ব বিরোধের জেরে একলা পেয়ে জোর পূর্বক মোটর সাইকেলে তুলে অপহরন করেন। অপহরনের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে স্বজন ও গ্রামবাসী জামিন ইসলামকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে খোঁজ-খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে পুলিশি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কলদিয়ে অপহরনের ঘটনাটি জানানোর পরই নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার জনাব প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ ও নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স সহ দ্রুত অভিযানে নামেন এবং মোবাইল ফোন ট্যাকিং এর মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাত সারে ৯ টারদিকে ভীমপুর মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের ভেতর থেকে স্থানিয় লোকজনের সহযোগীতায় গুরুতর জখম অবস্থায় জামিনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন পুলিশ।
নজরুল ইসলাম নূর আরো বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরধরে
শুক্রবার সন্ধার পূর্ব মহূর্তে আমার ভাতিজা জামিনকে একা পেয়ে একই গ্রামের যোবায়েদ, খাইরুল, আইয়ুব হোসেন দিপু, মাজেদ, তোফাজ্জল হোসেন তফা ও মুস্তাফির রহমান শিমুল সহ আরো অপরিচিত কয়েকজন মোটর সাইকেল নিয়ে এসে জোর পূর্বক ভাতিজা জামিনকে মোটর সাইকেলে তুলে অপহরন করলে আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে গ্রামবাসী ও স্বজন সহ প্রায় ৪/৫ শত লোকজন ভীমপুর সহ বলিহার এলাকায় বিভিন্নভাবে খোজাখুজি করে না পেয়ে অবশেষে ৯৯৯ নম্বরে ফোনদিলে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছেন এবং ফোন ট্যাকিং করেও একেক সময় একেক লোকেশান দেখালে সেখানে না পাওয়াই আমরা দিশেহারা হলেও পুলিশ সব সময় আমাদের সাথে নিয়ে অবশেষে রাত সারে ৯ টারদিকে ভীমপুর মাদ্রাসার পেছনের জঙ্গলের ভেতর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান, কিন্তু দায়িত্বরত চিকিৎসকরা গুরুতর জখম সহ বিষাক্ত দ্রব্য মুখের ভেতর দেওয়ার কারনে রাজশাহী রেফার্ড করেন।
শনিবার পূর্বরাত ২ টারদিকে
নজরুল ইসলাম নূর জানান, বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে অবস্থা আশংখ্যাজনক জানিয়ে তিনি বলেন, অপহরনের পর বলিহার এলাকায় নিয়ে বেদম মারপিট করার পর মুখের ভেতর বিষাক্ত দ্রব্যদিয়ে মৃত্যু হয়েছে মনে করেই তারা আমার ভাতিজা জামিনকে ভীমপুরে এনে জঙ্গলের ভেতর ফেলে রেখে পালিয়ে যান, তবে ভাগ্য ভালো যে পুলিশ  দ্রুত এসে ফোন ট্যাকিং করার কারনেই জীবন্ত অবস্থায় ভাতিজাকে ফিরে পেয়েছি, তবে এখনো অবস্থা তার খারাপ।
এব্যাপারে মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ প্রতিবেদককে জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত অভিযানে নামি এবং মোবাইল ফোন ট্যাকিং করার মাধ্যমে ও স্থানিয়দের সহযোগীতায় অপহরনের মাত্র ৩ ঘন্টার মধ্যেই  ভিকটিমকে উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ওসি আরো বলেন, এঘটনায় ভিকটিমের পক্ষে স্বজনরা মামলার পস্তুতি নিচ্ছে, অপরাধী যেই হোক না কেন ছাড়  দেওয়া হবে না।