নওগাঁয় কারাগার থেকে জামিনে বের হলো বিএনপির ১৭ জন নেতাকর্মী

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ  নওগাঁয় দলীয় কর্মসূচি পালনের কারণে আটককৃত মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ রবিউল আলম বুলেটসহ ১৭ নেতাকর্মী জামিন পেয়েছেন। দীর্ঘ এক মাস ১২ দিন হাজত বাসের পর মঙ্গলবার দুপুরে ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানী শেষে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ এ, কে, এম, শহীদুল ইসলাম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
তাদের পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন এ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, এ্যাডভোকেট সাব্বির রহমান, এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। সরকার পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ আব্দুল খালেক।
জামিন পাওয়া অন্যরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাতুড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মতিন মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবদুস সোবাহান, সদস্য চঞ্চল রহমান, সদস্য ইখতিয়ার উদ্দিন দূরন্ত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম আবদুল হান্নান, উপজেলা বিএনপির সদস্য ফেরদৌস আলম, জেলা বিএনপির নেতা আব্দুল বারী, আলাউদ্দিন বাবু, মুকুল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, নজরু ইসলাম রিন্টু, নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আফজাল হোসেন সরদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সাথী ও রাণীনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন।
উল্লেখ্য যে, গত ৩০ মার্চ বিকেলে দলীয় কর্মসূচী শেষে নওগাঁ থেকে মহাদেবপুর ফেরার পথে উপজেলার নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় মহাদেবপুরের ৮ নেতাকর্মী ও নওগাঁ থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট এ, জেড, এম, রফিকুল ইসলাম রফিকসহ ৬ জনকে ও গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে অন্যদের আটক করা হয়। ইতিপূর্বে এ্যাডভোকেট রফিক একই কোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন।
স্বাধীনতার সূবর্নজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ঘিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম সমর্থকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চট্টগ্রামে চারজন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাতজন নিহত হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৩০ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ জেলা বিএনপি কার্যালয় কেডির মোড়ের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ সদস্যসহ বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এব্যাপারে সদর থানা পুলিশ বাদী হয়ে আটক করা ১৭ জনসহ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে মারপিট করার অভিযোগে একটি এবং সরকারী সম্পত্তিসহ জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।
Attachments area